মিসরকে ৩–২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ এএম
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আজ যা মঞ্চস্থ হলো, তা ফুটবল ইতিহাসের কোনো সাধারণ ম্যাচ নয়—এ এক অবিস্মরণীয়, অলৌকিক এবং শ্বাসরুদ্ধকর রূপকথা। ম্যাচের ঘড়িতে তখন ৭৮ মিনিট। স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে আর্জেন্টিনা ০ : ২ মিশর। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পথ তখন মাত্র কয়েক মিনিট দূরে, গ্যালারিতে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের চোখ জুড়ে কান্নার রোল। কিন্তু সেই লিওনেল মেসির ডিকশনারিতে যে ‘হার’ শব্দটা নেই, তা আরও একবার প্রমাণ করল আর্জেন্টিনা। এরপরের ১৪ মিনিটে আটলান্টার পিচে ধেয়ে এল এক আর্জেন্টাইন টর্নেডো। রোমেরোর হেড, মেসির সমতাসূচক গোল এবং যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের মহাকাব্যিক ফিনিশিংয়ে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচ শেষের পর যোগ করা সময়ের ১২তম মিনিটে যখন রেফারির শেষ বাঁশি বাজল, তখন মাঠের মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। সতীর্থদের উষ্ণ আলিঙ্গন আর গ্যালারির দর্শকদের দিকে তাকিয়ে মেসির সেই আনন্দের অশ্রু যেন মনে করিয়ে দিচ্ছিল বিশ্বমঞ্চে মহাকাব্যের এই রাজপুত্রের টিকে থাকার লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি।
এর আগে প্রথমার্ধে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর ফাউল হওয়ায় ভিএআরের দ্রুত হস্তক্ষেপে মিশরের আরেকটি গোল বাতিল হলেও প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে পিছিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ৪৫ মিনিটের খেলায় ৬০ শতাংশ বলের দখল এবং ৭টি শট নিয়েও ফারাওদের রক্ষণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে মোহাম্মদ সালাহর পাস থেকে হাইসেম হাসানের নিকু ক্রসে কোনো মার্কিং ছাড়াই থাকা মোস্তাফা জিকো সহজ শটে বল জালে পাঠালে ২-০ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য লিড নিয়ে আর্জেন্টিনাকে ধ্বংসের কিনারায় ঠেলে দেয় মিশর।
শিরোপাধারীরা তখন ভয়ংকর চাপে, কিন্তু ৭৯তম মিনিটে ম্যাচ লাইফলাইন পায় আর্জেন্টিনার। ডান প্রান্ত থেকে মেসির ভাসিয়ে দেওয়া এক দুর্দান্ত ও জাদুকরী ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে কোনো বাধা ছাড়াই জোরালো হেডে প্রথম গোল শোধ করেন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৮৩ মিনিটে ম্যাজিক দেখান এলএমটেন। আক্রমণ গড়ে তোলার সময় লাউতারো মার্তিনেজের পাস থেকে বল বদলি ফুটবলার মন্তিয়েলের গায়ে লেগে চলে আসে মেসির সামনে। সুযোগ পেয়েই মেসির নেওয়া শট মিশরীয় কিপার মোস্তাফা শোবাইরের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে জালে জড়ালে ২-২ সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিটে) সম্পন্ন হয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই কামব্যাকের শেষ অধ্যায়। প্রতি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ডানপ্রান্তে দুর্দান্ত দৌড়ে বক্সে এক নিখুঁত ক্রস বাড়ান লাউতারো মার্তিনেজ, আর সেখানে চিতার গতিতে ধেয়ে এসে বুলেট গতির এক ডাইভিং হেডে মিশরের জাল কাঁপিয়ে স্কোরলাইন ৩-২ করেন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ২-০ থেকে ৩-২ ব্যবধানের এই অতিমানবীয় জয়ে মিশরীয় ফারাওদের স্বপ্ন চূর্ণ করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা পা রাখল শেষ আটে। পেনাল্টি মিস, পোস্ট ট্র্যাজেডি এবং ২ গোলের পাহাড় টপকে আর্জেন্টিনার এই রূপকথা ২০২৬ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অমর বীরত্বগাথা হয়ে থাকবে।
/এএ