×
Logo

খেলাধুলা

শীর্ষ দশ জনবহুল দেশের ৮টিই কেন খেলতে পারে না ফুটবল বিশ্বকাপ?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

শীর্ষ দশ জনবহুল দেশের ৮টিই কেন খেলতে পারে না ফুটবল বিশ্বকাপ?

ছবি: বিবিসি

বড় পর্দায় খেলা চলছে আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার। ১৭ জুনের ওই ম্যাচে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি যখন বিশ্বকাপের প্রথম গোল করলেন, তখন চারদিক উন্মাতাল। ‌'গোল', 'মেসি', 'ভামোস'- চারদিকে নানা ধ্বনি।  

এমন চিত্র শুধু বুয়েন্স এইরেসে না, আর্জেন্টিনা থেকে বহু দূরের বাংলাদেশেও ছিল একই দৃশ্য। 'ওপেন এয়ার ওয়াচ পার্টি'তে অনেকেরই গায়ে পরা ছিল আলবিসেলেস্তাদের জার্সি। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান আর ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতেও ছিল উন্মাদনা। 

এত বড় জনসংখ্যার দেশ, ফুটবল নিয়ে এত আগ্রহ, এত ভালোবাসা; কিন্তু এই দেশগুলো ফুটবলে ভালো করে না কেন? এমন প্রশ্ন জাগতেই পারে অনেকেরই মনে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে।

তাদের মতে, বৃহৎ জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও ভারত, চীন এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলো পর্যাপ্ত অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং অভিজ্ঞতার অভাবে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রিকেটের মতো অন্য খেলার জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ফুটবলার তৈরির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বিশেষজ্ঞ স্টেন সিমানস্কির মতে, ফুটবলে সাফল্য পেতে কেবল লোকবল নয়, বরং দীর্ঘদিনের পেশাদার কৌশল এবং আর্থিক সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি। নিজস্ব দল না থাকায় এই অঞ্চলের ভক্তরা সাধারণত আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের মতো অন্য সফল রাষ্ট্রগুলোকে সমর্থন করার মাধ্যমে বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগ করেন। 

তাই প্রশ্ন হতে পারে ফুটবল বিশ্বকাপে জনসংখ্যা কেন সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারছে না?

তাত্ত্বিকভাবে কোনো দেশের জনসংখ্যা যত বেশি, সেখান থেকে দক্ষ অ্যাথলেট খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে এই তত্ত্ব সবসময় কার্যকর হচ্ছে না। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল ১০টি দেশের মধ্যে মাত্র দুটি যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পেরেছে। 

বড় জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও ফুটবলে ভালো না করার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হয় অর্থের সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা। ফুটবলে সাফল্যের জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং প্রতিভা খুঁজে বের করার সক্ষমতা থাকা জরুরি। অধিকাংশ সফল ফুটবল খেলুড়ে দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ।

গবেষণায় দেখা গেছে, ফুটবলে বড় সাফল্য পেতে হলে একটি দেশের মানুষের গড় বার্ষিক মাথাপিছু আয় সাধারণত অন্তত ১৫,০০০ ডলার হওয়া প্রয়োজন। তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলো এই আয় সীমার নিচে থাকা সত্ত্বেও তাদের দীর্ঘদিনের কারিগরি জ্ঞান বা 'নো-হাউ' এর কারণে সফল হয়েছে।

এছাড়া কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাও বড় নিয়ামক। ফুটবলে সাফল্যের পেছনে একটি দেশের দীর্ঘদিনের খেলার ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেসব দেশ ১০০ বছর আগে থেকেই এই খেলায় আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তারাই বর্তমানে বেশি সফল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় উরুগুয়েকে। দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ৩৫ লাখ হলেও ১৯০২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতার কারণে তারা দুটি বিশ্বকাপ জিততে পেরেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে ফুটবল অনেক পরে জনপ্রিয়তা পাওয়ায় তারা এখনও পিছিয়ে আছে।

অন্যান্য খেলার জনপ্রিয়তা ও সামাজিক প্রভাবও ভূমিকা রাখে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ক্রিকেটের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ফুটবলের বিকাশে একটি বড় বাধা। ভারতের মতো দেশে আইপিএল-এর আর্থিক সাফল্যের কারণে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ফুটবলের চেয়ে ক্রিকেটের দিকে বেশি উৎসাহিত করেন।

/এমএমএইচ

Logo