প্রথমার্ধ শেষে আলজেরিয়ার সাথে ১-০ গোলে এগিয়ে সুইজারল্যান্ড
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর মঞ্চে মুখোমুখি হয়েছে ইউরোপের অন্যতম দল সুইজারল্যান্ড এবং উত্তর আফ্রিকার পরাশক্তি আলজেরিয়া। শেষ ১৬-তে ওঠার এই মরণপণ লড়াইটি কেবল দুটি দলের ম্যাচ নয়, বরং এটি ফুটবল মাঠের সম্পূর্ণ বিপরীত দুই ঘরানার রণকৌশলের এক ক্লাসিক মহাযুদ্ধ। ম্যাচের শুরু থেকেই আলজেরিয়ার বসনিয়ান কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচ তার সাহসী ছক সাজিয়েছেন—হাই ডিফেন্সিভ লাইন, আগ্রাসী প্রেসিং এবং এমন এক আক্রমণভাগ যা প্রতিপক্ষের বক্সে এক মুহূর্তের জন্যও স্থির থাকে না।
শুক্রবার (৩ জুলাই) গ্রুপ ‘বি’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকা সুইজারল্যান্ড মাঠে নেমেছে ঠিক তার উল্টো মানসিকতা নিয়ে; যেখানে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তাদের মূল ভরসা মাঝমাঠের জেনারেল গ্রানিত জাকা।
মাঠের লড়াইয়ে আলজেরিয়ার আক্রমণভাগের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে এক অভিনব দৃশ্য। রিয়াদ মাহরেজ, ইব্রাহিম মাজা এবং হুসেম আউয়ার—এই তিনজনই পালাক্রমে ‘ফলস নাইন’ পকেটে জায়গা করে নিচ্ছেন। কোনো নির্দিষ্ট স্ট্রাইকার পজিশন না রেখে তারা নিচে নেমে আসছেন, নিজেদের মধ্যে বল রোটেশন করছেন এবং প্রতিপক্ষ ডিফেন্সকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছেন। এই জাদুকরী পাসিং ফুটবলের ওপর ভর করেই ম্যাচে বর্তমানে আলজেরিয়ার দখলে রয়েছে অবিশ্বাস্য ৬৮ শতাংশ বল পজিশন। তবে পেটকোভিচের এই অতি-আক্রমণাত্মক কৌশলের একটি বড় দুর্বলতাও স্পষ্ট। বলের দখল হারালেই আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ প্রচণ্ড নড়বড়ে হয়ে পড়ছে, যা তাদের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।
ঠিক এই দুর্বলতার জায়গাতেই আঘাত হানতে ওত পেতে আছে মুরাত ইয়াকিনের সুইজারল্যান্ড। সুইসরা খেলছে লম্ব পাসের ডিরেক্ট ফুটবলে, যেখানে অফ-দ্য-বল রান বা বল ছাড়া উইঙ্গারদের দৌড় তাদের বড় শক্তি। মাঝমাঠের বেশ গভীরে নেমে এসে গ্রানিত জাকা পুরো ম্যাচের সুতো নাড়ছেন এবং নিখুঁত দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আলজেরিয়ার ডিফেন্সকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন। ম্যাচের বয়স বাড়ার সাথে সাথে সুইসরা আলজেরিয়ার কাছ থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে শুরু করেছে এবং মাঠে তাদের আধিপত্যও দৃশ্যমান হচ্ছে।
গ্রুপ ‘জে’ থেকে তৃতীয় হয়ে কোনোমতে নকআউটে আসা আলজেরিয়া এর আগেও একবার নিজেদের রক্ষণাত্মক ভুলের মাশুল গুনেছে। আজ সিয়াটলের মাঠে আলজেরিয়ার নিপুণ পায়ের নিখুঁত ছন্দ শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়, নাকি সুইজারল্যান্ডের লড়াকু ও সোজা সাপ্টা ফুটবল বাজিমাত করে, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
/এএ