২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ঘরের মাঠের এস্তাদিও আজতেকায় ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছরের নকআউট খরা কাটানোর আনন্দে যখন পুরো মেক্সিকো ভাসছিল, ঠিক তখনই দেশটির রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেমে এসেছে এক অন্ধকার ও হৃদয়বিদারক শোকের ছায়া। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে জয়ের পর মেক্সিকো সিটির রাজপথে লাখো ফুটবল ভক্তের বাঁধভাঙা ভিড় ও তীব্র হুড়োহুড়িতে দম আটকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) প্রথম প্রহরে মেক্সিকো সিটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঐতিহাসিক ‘অ্যাঞ্জেল অব ইন্ডিপেনডেন্স’ ল্যান্ডমার্কের চারপাশের এলাকাগুলোতে যখন মেক্সিকান ফ্যানরা আনন্দের জোয়ারে নাচছিলেন, ঠিক তখনই অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
উদ্ধারকারী দল ও জরুরি মেডিকেল টিম মেক্সিকো সিটির সবচেয়ে বিখ্যাত বুলেভার্ড ‘পাসিও দে লা রিফরমা’র বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বেশ কয়েকজন সংজ্ঞাহীন মানুষকে উদ্ধার করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই নিবিড় জীবন রক্ষাকারী প্রচেষ্টার পরও এক ৪৪ বছর বয়সী পুরুষ এবং ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে নিকটবর্তী আরেকটি রাস্তায় শ্বাসরোধের শিকার হওয়া ৪৮ বছর বয়সী এক নারীকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সবাইকে সর্বদা দায়িত্বশীলতা, যত্ন এবং সহানুভূতি নিয়ে আনন্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে এই জয়টি ছিল এক মহাকাব্যিক ক্ষণ, কারণ ঘরের মাঠে এরিক লিরা, হোর্হে সানচেজ এবং হেসুস গ্যালার্দোদের লড়াকু ফুটবলে ভর করেই দীর্ঘ চার দশক পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জিতে শেষ ১৬-র টিকিট কাটল সহ-আয়োজকরা। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক গৌরবের রাতে গ্যালারি ও রাজপথের গগনবিদারী উল্লাসের সমান্তরালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে আসা ভিডিওগুলোতে প্যারামেডিকস ও জরুরি উদ্ধারকারীদের মাটিতে পড়ে থাকা নিথর দেহগুলোর ওপর সিপিআর দেওয়ার দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীদের চোখের কোণায় জল এনে দিয়েছে।
/এএ