×
Logo

খেলাধুলা

প্রাচীন কোনো ইতিহাস নয়, সমর্থকদের হাত ধরে জন্ম নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

প্রাচীন কোনো ইতিহাস নয়, সমর্থকদের হাত ধরে জন্ম নরওয়ের ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীদের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নেওয়া নরওয়ে সমর্থকদের সিগনেচার উদযাপন ‘ভাইকিং রো’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের শেষ নেই। মাঠে কিংবা নিউ ইয়র্কের জনাকীর্ণ রাস্তায় হাজারো সমর্থকের একসঙ্গে বসে দাঁড় টানার এই দৃশ্য দেখে অনেকেই ভাবছেন, এটি হয়তো হাজার বছর আগের প্রাচীন ভাইকিংদের কোনো ঐতিহ্যবাহী আনুষ্ঠানিকতা। তবে সত্যটা হলো, এই উদযাপনের সাথে প্রাচীন ইতিহাসের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই। এটি কোনো প্রাচীন সাগা বা ইতিহাস থেকে উঠে আসা কোনো আচার নয়, বরং নরওয়েজিয়ান সমর্থকদের নিজেদের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করার জন্য সম্পূর্ণ আধুনিক ও কৃত্রিমভাবে তৈরি করা এক ফুটবল সংস্কৃতি। 

৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিস্টাব্দের ভাইকিং যুগের নর্স যোদ্ধাদের সেই বিখ্যাত লংবোট বা যুদ্ধজাহাজে দাঁড় টানার চিরচেনা দৃশ্যকে অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করেই এই অভিনব থিম সাজানো হয়েছে। তবে একে কোনো গুরুগম্ভীর বা আনুষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে দাবি করছেন না সমর্থকরা, আর এটাই এর আসল সৌন্দর্য।

১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘ ২৮ বছর বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে না পারা নরওয়ের ফুটবলে সমর্থকদের মাঝে যে একটা বড় সাংস্কৃতিক শূন্যতা ছিল, সুপারফ্যান ওলে ফ্রোইস্টাডের হাত ধরে জন্ম নেওয়া এই ‘ভাইকিং রো’ সেই শূন্যতাকে এক লহমায় দূর করে দিয়েছে। এটি এমন এক ভিজ্যুয়াল ও সাউন্ড ইফেক্ট তৈরি করে যা অতি সাধারণ দর্শকদেরও খুব সহজে আকৃষ্ট করে।

২০১৬ ইউরো কাপে আইসল্যান্ডের সেই বিখ্যাত ‘থান্ডার ক্ল্যাপ’ যেভাবে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছিল, ঠিক একইভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের এই উদযাপন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করছে। এর মূল কারণ হলো এটি অত্যন্ত ক্যামেরা-ফ্রেন্ডলি, নাটকীয় এবং দলগতভাবে করা ভীষণ সহজ।

যখন মাঠে আর্লিং হালান্ড এবং মার্টিন ওডেগার্ডের মতো বিশ্বসেরা তারকারা আইভরিকোস্টকে হারানোর পর মাঠের বুকে বসে সমর্থকদের সাথে তাল মিলিয়ে দাঁড় টানতে শুরু করেন, তখন এটি কেবল একটি সাধারণ জয়োৎসব থাকে না, বরং টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান একটি বৈশ্বিক ভাষা হয়ে ওঠে। 

/এএ 

Logo