ফটুবল বিশ্বকাপ ২০২৬
আয়োজক হওয়ায় প্রত্যাশার চাপ বেশি যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কিন কূটনৈতিক
আহমেদ রেজা
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
১৯৯৪-এর পর ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। এই মহাযজ্ঞে ১২বারের অংশগ্রহণে দেশটির সর্বোচ্চ অর্জন ১৯৩০-এর সেমিফাইনাল। ঘরের মাটিতে এবারের বিশ্বকাপে রাউন্ড অব থার্টি টু-তে উঠেছে আমেরিকানরা।
স্বাগতিক দেশ হওয়ায় বাড়তি চাপের পাশাপাশি দলটির অভিজ্ঞতা, কৌশল, দুর্বলতা আর প্রত্যাশার বেশ ভালো খোঁজখবর রাখছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক অ্যালবার্ট আর সেয়া। তার সাথে কথা হয় যমুনা টেলিভিশনের।
ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুল জেনারেল অ্যালবার্ট আর সেয়া বলছিলেন, ১৯৯৪-এ আমরা যখন স্বাগতিক ছিলাম, তখন শুধু বিশ্বকাপে অংশ নেওয়াটাই ছিল আনন্দের। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সংস্কৃতি অনেক পরিণত। এটি আমার প্রথম বিশ্বকাপ নয়; আমি এর আগে পুরুষদের পাঁচটি এবং নারীদের একটি বিশ্বকাপ সরাসরি দেখেছি। যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল কীভাবে একটি বড় খেলায় পরিণত হয়েছে, সেটা নিজ চোখে দেখা সত্যিই দারুণ। কখনো ভাবিনি, আমরাও এতো ভালো ফুটবল খেলবো, এতো সমর্থন পাবো।
বিশ্বকাপ ঘিরে পৃথিবীজুড়েই রোমাঞ্চ। সেই আয়োজনে বিশ্বের নানা প্রান্তের সমর্থকদের স্বাগত জানাতে পেরে খুশি যুক্তরাষ্ট্র। প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র এবারের আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল, এমনকি সেমিফাইনালেও খেলতে পারে।
অ্যালবার্ট আর সেয়া বলেছেন, সমর্থকদের যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানিয়েছে, সেটি প্রশংসার দাবি রাখে। আধুনিক যুগে আমাদের সেরা অর্জন কোয়ার্টার ফাইনাল। এবারও আমার বিশ্বাস, দল অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে এবং সেমিফাইনালেও পৌঁছানোর সামর্থ্য রাখে। শক্তিশালী সমর্থন, সঠিক কৌশল আর ভাগ্য কিছুটা সহায় হলে যেকোনো দলই ইতিহাস গড়তে পারে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার জীবদ্দশায়ই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ জিতবে।
এদিকে, ব্রাজিলের গ্রেট ফুটবলার রোনালদোর সাথে খেলার অভিজ্ঞতা জানালেন আরেক মার্কিন কূটনিতিক স্কট হার্টম্যান। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পাশাপাশি ফ্রান্সও বেশ শক্ত দাবিদার বলে মত তার। আর যুক্তরাষ্ট্র কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলেই সেটি হবে অসাধারণ অর্জন।
ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের পাবলিক এঙ্গেজমেন্টের পরিচালক স্কট হার্টম্যান বলছিলেন, আমি অর্ধেক ব্রাজিলিয়ান, রিও ডি জেনেইরোতে আত্মীয়দের কাছে বেড়াতে গেলে একদিন বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতের কাছে ফুটবল খেলেছিলাম। সেই ছোটবেলায় এখনকার ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদোও এসে প্রায় আধাঘণ্টা আমাদের সঙ্গে খেলেছিল; সেই মুহূর্ত আমি কখনো ভুলব না।
যুক্তরাষ্ট্রের নারী দল বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি; পুরুষ দলও সেই পথে হাঁটতে শুরু করেছে বলে মনে করেন এই দুই কূটনীতিক।
/এমএন