×
Logo

খেলাধুলা

ব্রাজিলের কামব্যাকের নেপথ্যে 'মাস্টারমাইন্ড' আনচেলত্তি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

ব্রাজিলের কামব্যাকের নেপথ্যে 'মাস্টারমাইন্ড' আনচেলত্তি

জাপানের বিপক্ষে ম্যাচের ৯৬ মিনিটে সুপার সাব গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির জয়সূচক গোল। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে প্রথম বারের মত পিছিয়ে পড়েও জয়ে ব্রাজিল ডাগ আউট যখন আনন্দে ফেটে পড়ছিলো! ঠিক তখনই ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ছিলেন একেবারেই নির্বিকার! ওই চোখে নেই কোনো উচ্ছাস, অহংকার, প্রতিক্রিয়া! যেনো এটাই হবার কথা ছিলো! সারা বিশ্ব তখন অবাক হয়ে ভাবে, ডন কার্লো মানুষ তো!

এটাকে ফুটবলের সৌন্দর্য বললেও ভুল হবে না। জাপান কোচে মরিয়াসুর সকল আকি বুকি বৃথা গেলো আনচেলত্তির মাস্টারপ্ল্যানের কাছে। পিছিয়ে পড়েও জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর কামব্যাকে ব্রাজিল উঠলো শেষ ১৬ তে। ম্যাচ শেষের পর প্রতিপক্ষের কোনো কথার আঘাতে ম্যাথিউস কুনিয়ার হাতের পাঁচ আঙ্গুল দেখিয়ে বললো, আমাদের ৫ টা আছে। এটাই ব্রাজিল। তোমাদের কয়টা আছে?

ব্রাজিল যখন ১-১ গোলে সমতায়। তখন ডাগ আউটে বদলি হিসেবে নামার জন্য গা গরম করছিলেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র। কিন্তু কেনো নামালেন না। ম্যাচ শেষে জানালেন কার্লো।

আনচেলত্তি বলেন, 'অতিরিক্ত সময়ে নেইমারকে নামানোর পরিকল্পনা ছিল। ওর সঙ্গে এ নিয়ে কথাও হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে আমরা সমতায় ফিরতে না পারলে ৬০ বা ৬৫ মিনিটের দিকে ওকে মাঠে নামানো হতো। কিন্তু গোল শোধ করার পর দলের কৌশলে পরিবর্তন আনতে চাইনি। কারণ, তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতেই ছিল।'

মূলত, ব্রাজিল দলের ওপর সবসময় প্রচণ্ড চাপ থাকে, কিন্তু কোচ কার্লো আনচেলত্তি চরম মুহূর্তেও মাথা ঠান্ডা রেখে দারুণ এক চাল চাললেন। প্রথমার্ধে মাঝমাঠে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিল দলে লুকাস পাকেতার বদলে এন্ড্রিককে নামিয়ে ৪-২-৪ ফরমেশনে খেলার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন তিনি, যা ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করে। রিয়াল মাদ্রিদের মতোই, গুছিয়ে খেলতে না পারলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বড় তারকাদের জাদুতে ঠিকই জয় ছিনিয়ে নেওয়ার চিরচেনা কৌশল দেখালেন আনচেলত্তি। ম্যাচ শেষে কোচের প্রশংসায় পঞ্চ মুখ গোলদাতা মার্তিনেল্লি।

ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি বলেন, 'কার্লো আনচেলত্তির মতো একজন মাস্টারমাইন্ড কোচের অধীনে খেলতে পারাটা দারুণ ভাগ্যের। ম্যাচের প্রথমার্ধে যখন আমরা পিছিয়ে ছিলাম, ড্রেসিংরুমে তিনি আমাদের শান্ত করেন এবং কৌশলগত কিছু পরিবর্তন আনেন । যেমন পাকেতার বদলে এন্দ্রিককে নামানো। তিনি আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন এবং তাঁর সেই রণকৌশলই শেষ পর্যন্ত আমাদের জয় এনে দিয়েছে।'

কিন্ত ম্যাচের শেষ মিনিটের গোলের পর কেনো কোনো উৎযাপন করেননি কার্লো। ম্যাচ শেষে নিজেই খোলাসা করলেন।

কার্লোর ভাষ্য, 'ডাগআউটে দাঁড়িয়ে থাকার সময় আমি টের পাচ্ছিলাম আমার পা কাঁপছিল। শেষ কবে আমি এমন প্রচণ্ড চাপের মুখোমুখি হয়েছি, তা মনে পড়ে না। এই চাপের কারণেই মার্টিনেল্লি যখন গোল করে ব্রাজিলের আশা ফিরিয়ে আনল, আমি ঠিকমতো উদযাপনও করতে পারিনি।'

উল্লেখ্য, ব্রাজিলের শেষ ষোলোর ম্যাচটি হবে ৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায়। সেই ম্যাচের প্রতিপক্ষ কোন দল, চূড়ান্ত হবে মঙ্গলবার রাতে। আইভরিকোস্ট-নরওয়ের মধ্যকার জয়ী দল শেষ ষোলোয় প্রতিপক্ষ হবে ভিনি নেইমারদের।

/এমএইচআর

Logo