দু'ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা-জার্মানি-ফ্রান্সের পরের রাউন্ড নিশ্চিত, অপেক্ষায় ব্রাজিল-ইংল্যান্ড
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
ইতিহাসে এবারই প্রথম ১২টি গ্রুপে ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। বুধবার (২৪ জুন) কলম্বিয়া ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক কঙ্গোর ম্যাচ দিয়ে শেষ হলো প্রত্যেক দলের দুটি করে ম্যাচ। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দল নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে, আবার কিছু দলের বিদায়ও নিশ্চিত হয়ে গেছে। শেষ ম্যাচগুলোর আগে আরও জটিল হয়ে উঠেছে বিভিন্ন গ্রুপের সমীকরণ।
২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, ১২টি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ড বা শেষ ৩২-এ উঠবে। পাশাপাশি, সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও জায়গা পাবে নকআউট পর্বে।
এ পর্যন্ত নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, নরওয়ে, আর্জেন্টিনা এবং কলম্বিয়া। এর মধ্যে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও আর্জেন্টিনা নিজেদেরকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতি, তুরস্ক, তিউনিশিয়া, জর্ডান এবং পানামার।
গ্রুপ ‘এ’-তে ৬ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম স্থান নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি জয় বা ড্র-ই তাদেরকে গ্রুপের রানার-আপ হিসেবে পরবর্তী পর্বে পৌঁছে দেবে। অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা উভয়েরই জয় এবং অন্য জায়গায় অনুকূল ফলাফলের প্রয়োজন হবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য।
গ্রুপ ‘বি’-তে সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে কানাডা-সুইজারল্যান্ড। এই ম্যাচে জয় বা ড্র করতে পারলেই কানাডা নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে ভ্যাঙ্কুভারে থেকে যেতে পারবে। তবে সুইজারল্যান্ড জয় পেলে কানাডাকে লস অ্যাঞ্জেলেসে যেতে হবে। অন্যদিকে, গাণিতিকভাবে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা এবং কাতার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকলেও, শীর্ষ দুইয়ে উঠতে হলে তাদের একটি জয়, অন্য দলের সাহায্য এবং বিশাল গোল ব্যবধান প্রয়োজন।
গ্রুপ ‘সি’-তে মরক্কো ও ব্রাজিলের সমান ৪ পয়েন্ট থাকলেও, গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষস্থানে আছে ব্রাজিল। পাশাপাশি, তিন পয়েন্ট নিয়ে এখনও লড়াইয়ে রয়েছে স্কটল্যান্ড। শেষ ম্যাচে ব্রাজিলকে হারাতে পারলে সরাসরি নকআউট নিশ্চিত করতে পারে তারা। তবে, এই গ্রুপের অন্য দল হাইতি প্রথম দুই ম্যাচে হেরে বিদায় নিয়েছে বিশ্বকাপ থেকে।
গ্রুপ ‘ডি’-তে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। আর সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে, দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচ হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে তুরস্ক।
গ্রুপ ‘ই’-তে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্বে পৌঁছে গেছে শীর্ষস্থানে থাকা জার্মানি। পরের ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জিতলেই আইভরি কোস্ট দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করতে পারবে এবং ড্র করলেও তারা পরবর্তী পর্বে যাবে, যদি না ইকুয়েডর জার্মানিকে কমপক্ষে দুই গোলে হারায়।
অন্যদিকে, ইকুয়েডরের এখনও দ্বিতীয় হওয়ার সুযোগ আছে, তবে এর জন্য জার্মানির বিপক্ষে একটি বড় জয় এবং কুরাসাওয়ের সাহায্য প্রয়োজন। এছাড়া প্রতিযোগিতায় টিকে আছে কুরাসাওও, যদিও তাদের একটি জয় এবং গোল পার্থক্যে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।
গ্রুপ ‘এফ’-এ শেষ ম্যাচের আগে জমে উঠেছে নকআউট পর্বে যাওয়ার লড়াই। গোল ব্যবধানে শীর্ষে থাকা নেদারল্যান্ডস, তিউনিশিয়াকে হারাতে পারলেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত করবে। চার পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপানের জন্য, সুইডেনের বিপক্ষে একটি ড্র-ই যথেষ্ট। অন্যদিকে, সুইডেনের সামনে সমীকরণ পরিষ্কার। নকআউট নিশ্চিত করতে হলে জিততেই হবে তাদের। ফলে গ্রুপের প্রথম স্থান ও সরাসরি নকআউটের দুটি টিকিট নিয়েই শেষ ম্যাচে লড়বে তিন দল।
গ্রুপ ‘জি’-তে শেষ ম্যাচের আগে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে মিশর। ইরানের বিপক্ষে জিতলেই নকআউট পর্বের টিকিটের পাশাপাশি গ্রুপ সেরাও হবে মিশর। এছাড়া, বেলজিয়ামের নকআউট নিশ্চিত করতে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পাশাপাশি মিশরের জয়েরও প্রয়োজন। অন্যদিকে, ইরানেরও পরের রাউন্ডে যেতে জয় এবং অন্য ম্যাচে অনুকূল ফলাফল দরকার। আর টিকে থাকার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে নিউজিল্যান্ডকে অবশ্যই বেলজিয়ামকে হারাতে হবে।
গ্রুপ ‘এইচ’-তে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে স্পেন। উরুগুয়ের বিপক্ষে জয় পেলেই গ্রুপ সেরার স্থান নিশ্চিত করবে তারা, আর ড্রও যথেষ্ট হতে পারে তাদের জন্য। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সরাসরি টিকিটের লড়াইয়ে রয়েছে কেপ ভার্দে ও উরুগুয়ে। কেপ ভার্দে জিতলেই নকআউট নিশ্চিত করবে, আর স্পেন উরুগুয়েকে হারালে ড্র করেও সুযোগ পেতে পারে। উরুগুয়ের ক্ষেত্রেও সমীকরণ প্রায় একই, জয় পেলেই পরের রাউন্ড। আর কেপ ভার্দে জিততে না পারলে ড্রও যথেষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের আশা বাঁচিয়ে রাখতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি অন্য ম্যাচের ফলও নিজেদের পক্ষে যেতে হবে।
গ্রুপ ‘আই’-এ ইতোমধ্যেই নকআউট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স ও নরওয়ে। তবে শেষ ম্যাচে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে গ্রুপ সেরা। অন্যদিকে, তৃতীয় স্থানাধিকারী দল হিসেবে টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে সেনেগাল ও ইরাক।
গ্রুপ ‘জে’-তে ইতোমধ্যেই শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণে মুখোমুখি হবে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া। এই ম্যাচের বিজয়ী সরাসরি নকআউট পর্বে উঠবে। তবে ম্যাচ ড্র হলে দুই দলকেই সেরা তৃতীয় স্থানধারীদের তালিকার হিসাবের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। ফলে গ্রুপ ‘জে’-তে এখন মূল লড়াইটা দ্বিতীয় হওয়ার টিকিটকে ঘিরেই।
গ্রুপ ‘কে’-তে দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে কলম্বিয়া এবং তারা ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। শেষ ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে জয় বা ড্র পেলেই গ্রুপ সেরা হবে কলম্বিয়া। অন্যদিকে, চার পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা পর্তুগালের জন্যও ড্র যথেষ্ট নকআউট নিশ্চিত করতে। তবে, এখনও আশা ছাড়েনি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক কঙ্গো ও উজবেকিস্তান। সেরা তৃতীয় স্থানের হিসাবের ওপর নির্ভরতা কমাতে শেষ ম্যাচে দু’দলকেই জয়ের জন্য খেলতে হবে। ফলে গ্রুপ ‘কে’-তে কলম্বিয়া ও পর্তুগাল এগিয়ে থাকলেও কঙ্গো ও উজবেকিস্তানের সামনে এখনও সুযোগ খোলা রয়েছে।
গ্রুপ ‘এল’-এ শেষ ম্যাচের আগে জমে উঠেছে শীর্ষ দুই স্থানের লড়াই। ঘানার সঙ্গে সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে, গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সবার ওপরে রয়েছে ইংল্যান্ড। তবে, ঘানা ও ক্রোয়েশিয়াও এখনও গ্রুপ সেরা হওয়ার দৌড়ে আছে। এখন পানামাকে হারাতে পারলেই নকআউট নিশ্চিত করবে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, ঘানা ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি লড়াই নির্ধারণ করতে পারে দ্বিতীয় স্থানের ভাগ্য। ইতোমধ্যে বিদায় নিশ্চিত হলেও ইংল্যান্ডের সঙ্গে অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করবে পানামা।
বিশ্বকাপে সমান পয়েন্ট হলে যেভাবে নির্ধারিত হয় অবস্থান
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল সরাসরি রাউন্ড অব থার্টি টু -এ জায়গা করে নেবে। তবে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করে ফিফা।
প্রথমে সমতায় থাকা দলগুলোর মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল বিবেচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে দেখা হয় অর্জিত পয়েন্ট, গোল ব্যবধান এবং গোলের সংখ্যা। এরপরও সমতা না ভাঙলে পুরো গ্রুপ পর্বে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হয়। তখন গোল ব্যবধান ও মোট গোলের হিসাব দেখা হয়।
এতেও সমাধান না হলে বিবেচনায় আসে ফেয়ার প্লে বা দলীয় আচরণ স্কোর, অর্থাৎ হলুদ ও লাল কার্ডের সংখ্যা। সবশেষে যদি সব সূচকেই সমতা থাকে, তাহলে সর্বশেষ প্রকাশিত ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিং অনুযায়ী দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।
/এনএ