শেখ তাহমীদ⚫
ফুটবল দুনিয়ায় একটা কথা বেশ প্রচলিত— রোনালদোকে কখনো বাতিলের খাতায় ফেলে দিও না। যখনই চারপাশ থেকে সমালোচনার তীর ধেয়ে আসে, যখনই মনে হয় সিআরসেভেন ফুরিয়ে গেছে; ঠিক তখনই তিনি ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠেন। আজ রাতে আরও একবার সেই সমালোচকদের জবাব দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তান ৫-০ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। দলের হয়ে জোড়া গোল করেছেন অধিনায়ক রোনালদো।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে পর্তুগাল। প্রথম ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত জয় না পাওয়া এবং দল ড্র করায় স্বাভাবিকভাবেই সব সমালোচনা গিয়ে আছড়ে পড়ে অধিনায়কের কাঁধে। কিন্তু ইতিহাস বলে— রোনালদোকে তাতিয়ে দিলে প্রতিপক্ষের কপালে শনি অবধারিত।
সিআরসেভেনের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, সমালোচনা তার জন্য জ্বালানির মতো কাজ করে। ক্যারিয়ারের এমন কিছু মুহূর্ত যা প্রমাণ করে কেন তাকে 'কামব্যাক কিং' বলা হয়।
২০১৮ বিশ্বকাপের ঠিক আগেই রোনালদোর ফর্ম এবং বয়স নিয়ে তুমুল সমালোচনা চলছিলো। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই তিনি যা করেছিলেন, তা ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। একক নৈপুণ্যে ফ্রি-কিক থেকে চোখ ধাঁধানো গোলসহ হ্যাটট্রিক করে ম্যাচ ড্র (৩-৩) করান এবং সমালোচকদের স্তব্ধ করে দেন।
চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম লেগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে জুভেন্টাস যখন টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার মুখে, তখন স্প্যানিশ মিডিয়া রোনালদোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দ্বিতীয় লেগে রোনালদো হুংকার ছেড়েছিলেন— 'আমি দেখাবো'। ঘরের মাঠে একাই ৩ গোল (হ্যাটট্রিক) করে অ্যাটলেটিকোকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাস পর্ব শেষ করে যখন অনেকেই ভাবছিলেন রোনালদোর ক্যারিয়ারের সূর্য অস্তমিত, ঠিক তখনই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরে অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে বিশ্বকে জানিয়ে দেন— রাজা এখনো সিংহাসনেই আছেন।
রোনালদো ভালো করেই জানেন কীভাবে এই মানসিক চাপকে মাঠের পারফরম্যান্সে রূপান্তর করতে হয়। প্রতিটি ম্যাচই রোনালদোর জন্য নতুন কোনো রেকর্ড গড়ার সুযোগ। আজ রাতেও বিশ্ববাসী দেখেছে তার সেই চেনা 'Siuuu' উদযাপন।
সমালোচকরা কলম চালাবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জবাবটা কলমে নয়, বুটের জাদুতে দিতে পছন্দ করেন। ফুটবল ঈশ্বরের স্ক্রিপ্টে আজ রাতেও লেখা হলো আরেকটি কামব্যাকের গল্প।
/এমএইচআর