শততম ম্যাচের মাইলফলকে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
ফাইল ছবি
ফুটবল বিশ্বে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে আলোচনার পারদ যেন দ্বিমুখী এক সেঞ্চুরির দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। মাঠের বাইরে রিয়াল মাদ্রিদের প্রায় ১০০ মিলিয়ন সমর্থক গত মৌসুমে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করার পরও তাকে বার্নাব্যু থেকে তাড়ানোর অনলাইন পিটিশনে সই করছেন, আর ঠিক তখনই মাঠের ভেতরে আরেকটি মহাকাব্যিক 'সেঞ্চুরি' বা একশো ম্যাচের মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছেন এই ফরাসি জাদুকর।
সোমবার (২২ জুন) রাতে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামার সাথেসাথেই মাত্র ২৭ বছর বয়সে ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের শততম (১০০) আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অনন্য কীর্তি গড়বেন এমবাপ্পে। ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে এর আগে মাত্র ৯ জন ফুটবলার এই ক্লাবে ঢুকতে পেরেছেন, তবে এত কম বয়সে এই মাইলফলক ছোঁয়ার রেকর্ড আর কারও নেই। ২০০৭ সালে প্যাট্রিক ভিয়েরা যখন শততম ম্যাচ খেলেন, তখন তার বয়স ছিল ৩০ বছর। ভিয়েরার সেই রেকর্ড ভেঙে সোমবার ফ্রান্সের কনিষ্ঠতম 'সেঞ্চুরিয়ান' হচ্ছেন এমবাপ্পে।
কেন তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা! মাত্র ১৯ বছর বয়সে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে পেলে-র পর প্রথম টিনেজার বা কিশোর হিসেবে ফাইনালের মঞ্চে গোল করে ফ্রান্সকে বিশ্বজয়ের মুকুট এনে দিয়েছিলেন এমবাপ্পে। ২০২২ কাতার ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ফাইনালের মঞ্চে হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও তার দখলে।
গত ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইতোমধ্যেই জাস্ট ফন্তেইনকে ছাড়িয়ে এবং জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের ১৪ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি। আর মাত্র ৩টি গোল করলেই তিনি মিরোস্লাভ ক্লোজকে টপকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির ঠিক পেছনে দ্বিতীয় স্থানে বসে যাবেন। নকআউট পর্বে আর একটি গোল করলেই বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়বেন এই মাদ্রিদ তারকা। মাত্র ২৭ বছর বয়সে যার ঝুলিতে ১৪টি বিশ্বকাপ গোল এবং সামনে আরও অন্তত দুটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ রয়েছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে তিনি যে বাকি সব রেকর্ড ধুলোয় মিশিয়ে দেবেন তা বলাই বাহুল্য।
এমবাপ্পের পক্ষে যুক্তিগুলো যতটা জোরালো, বিপক্ষে যুক্তিগুলোও ততটাই অকাট্য। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রতি ম্যাচে গোলের গড়ের ০.৯৩ দিক থেকে এমবাপ্পে এখনো গার্ড মুলার ১.০৮, ইউসেবিও ১.৫০ কিংবা জাস্ট ফন্তেইনের ২.১৭ চেয়ে পিছিয়ে। পেলের ৩টি বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফির রেকর্ডের পাশে এমবাপ্পের ঝুলিতে আছে মাত্র ১টি ট্রফি।
শুধু তাই নয়, যেখানে লিওনেল মেসির বিশ্বকাপে ৮টি অ্যাসিস্ট রয়েছে, সেখানে এমবাপ্পের অ্যাসিস্ট সংখ্যা মাত্র ৩টি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনা একাই ৫ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট করে দলের ৭১.৪ শতাংশ গোলে অবদান রেখে একক নৈপুণ্যে যেভাবে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন, সেই একক আধিপত্য এখনো এমবাপ্পের নামের পাশে বসেনি। ফুটবল ইতিহাসের এই 'গোট' বিতর্কের কোনো শেষ উত্তর না থাকলেও, আজ ফিলাডেলফিয়ার মাঠে ইরাকের বিপক্ষে শততম ম্যাচ খেলবে এমবাপ্পে।
/এএ