×
Logo

খেলাধুলা

ফুটবলে লাল কার্ড দেখানোর কারণগুলো কী? ফিফার নিয়মে যা আছে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

ফুটবলে লাল কার্ড দেখানোর কারণগুলো কী? ফিফার নিয়মে যা আছে

ফুটবল মাঠে একটি সিদ্ধান্ত কীভাবে পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ‘লাল কার্ড’। এই একটি কার্ড শুধু একজন খেলোয়াড়কে মাঠের বাইরে পাঠায় না, বরং পুরো দলের কৌশল ও মনোবল ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে।

চলতি ফিফা বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির একটি ট্যাকলকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ফুটবল বিশ্বে নতুন করে এক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, মেসির সেই ট্যাকলটি কি সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল? নাকি রেফারির সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল? 

লাল কার্ড আসলে কী এবং এর শাস্তি কতটা কঠোর?

ফুটবল মাঠে রেফারি যত রকমের শাস্তি দিতে পারেন, তার মধ্যে লাল কার্ড হলো সবচেয়ে কঠোর। একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার অর্থ হলো, তাকে সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং ম্যাচের বাকি সময়ে তিনি আর খেলতে পারবেন না।

এতে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি হয় দলের। কারণ, লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড়ের বদলে অন্য কোনো বদলি খেলোয়াড় নামানো যায় না। ফলে দলকে ১১ জনের বদলে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়। যদি কোনো ম্যাচে একই দলের একাধিক খেলোয়াড় লাল কার্ড পান, তবে মাঠের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

লাল কার্ড যেভাবে হয়:

কোনো গুরুতর অপরাধের জন্য সরাসরি লাল কার্ড। এছাড়াও একই ম্যাচে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড পেলে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ডে পরিণত হয়।

কোন কোন অপরাধে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়?

ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি-এর ১২ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী, যেসব অপরাধগুলোর জন্য একজন খেলোয়াড়কে সরাসরি মাঠ থেকে বহিষ্কার করা যায়:

গুরুতর ফাউল: প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এমন বিপজ্জনক ট্যাকল করা।

সহিংস আচরণ: বল কাছে থাকুক বা না থাকুক, ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করা, লাথি বা ঘুষি মারা কিংবা মারার চেষ্টা করা।

অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ: কাউকে কামড়ানো বা থুতু নিক্ষেপ করা।

নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করা: ফাউল করে বা গোলরক্ষক ছাড়া অন্য কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করলে।

খারাপ ভাষা ও অঙ্গভঙ্গি: মাঠে অপমানজনক, আক্রমণাত্মক বা অশালীন ভাষা এবং অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করা।

ভিএআর রুমে প্রবেশ: অনুমতি ছাড়া ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) রুমে প্রবেশ করা। এটি আধুনিক ফুটবলের একটি নতুন নিয়ম।

এবার আসি গত ম্যাচে মেসির সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল?

বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটেছিল প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার আইসা মান্দির সঙ্গে মেসির বল দখলের লড়াইয়ের সময়। বল নিতে গিয়ে মেসি একটি ট্যাকল করেন, যার ফলে মান্দি মাঠে আছড়ে পড়েন।

ম্যাচের রেফারি পোল্যান্ডের সাইমন মারচিনিয়াক ঘটনাটি খুব কাছ থেকে দেখেন। তবে তিনি মেসিকে কোনো কার্ড না দেখিয়ে কেবল মুখে সতর্ক করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ব্যস, ওখানেই বিতর্কের সূত্রপাত।

এরপরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল ভক্তদের একাংশ দাবি করেন, ট্যাকলটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল এবং মেসির সরাসরি লাল কার্ড পাওয়া উচিত ছিল। অন্য পক্ষের দাবি, মেসি কেবল বল লক্ষ্য করেই পা বাড়িয়েছিলেন, প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না।

তবে রেফারি কেন কার্ড দেখালেন না? নিয়মে কি আছে

আইএফএবি অনুযায়ী, মাঠে যেকোনো ট্যাকল বা ফাউলকে রেফারিরা মূলত তিনটি স্তরে বিচার করেন:

১. অসাবধানতা (Careless): এটি সাধারণ ফাউল, যেখানে বড় কোনো আঘাতের ঝুঁকি থাকে না। এর শাস্তি হিসেবে কোনো কার্ড দেওয়া হয় না, শুধু ফাউল ধরা হয়।

২. বেপরোয়া আচরণ (Reckless): প্রতিপক্ষের সুরক্ষার কথা চিন্তা না করে বিপজ্জনকভাবে বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে এটি দেওয়া হয়। এর শাস্তি নিশ্চিত হলুদ কার্ড।

৩. অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ (Excessive Force): প্রতিপক্ষের নিরাপত্তাকে গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলে অত্যন্ত হিংস্রভাবে ট্যাকল করা। এর শাস্তি সরাসরি লাল কার্ড।

এই নিয়মের কারণেই রেফারি সাইমন মারচিনিয়াকের সিদ্ধান্ত ভিন্ন ছিল। রেফারির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মেসি মূলত বল দখলের উদ্দেশ্যেই পা বাড়িয়েছিলেন এবং পরিস্থিতিগত কারণে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার সংঘর্ষ ঘটে। এটিকে রেফারি 'অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ' বা 'সহিংস আচরণ' বলে মনে করেননি। তাই তিনি কার্ড না দেখিয়ে শুধু সতর্ক করেছেন।

শেষ কথা ফুটবলে প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে, এসেছে ভিএআর। তবুও দিনশেষে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত এবং তার ব্যক্তিগত বিচারক্ষমতাই চূড়ান্ত। একই ঘটনা একেকজন মানুষের চোখে একেক রকম মনে হতে পারে। মেসির ট্যাকল নিয়ে আলোচনা একসময় হয়তো থেমে যাবে, কিন্তু ফুটবল যতদিন থাকবে, লাল কার্ডের এই নিয়ম আর রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও ততদিন চলতেই থাকবে।

তথ্যসূত্র: ফিফা

/এমএসটি/এসআইএন

Logo