এমবাপ্পে, মাইকেল অলিসের ডেডলি ডুও থেকে শুরু করে উইলিয়াম সালিবা এবং শুয়ামেনি, তারকায় ঠাসা এক দল ফ্রান্স। আবার কম যায় না স্পেনও। তাদের রয়েছে রদ্রি, লামিন ইয়ামাল, পেদ্রির মতো তারকা। আবার পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল তো আরও তারকাবহুল। রোনালদোর সাথে আছে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভাসের মতো তারকারা। সেই হিসাব করলে, লিওনেল মেসির দল তারকা লিস্টে কিংবা কাগজে কলমের শক্তিতে কিছুটা পিছিয়ে পড়তেই পারে।
কিন্তু মেসির দলের একটা এক্স ফ্যাক্টর আছে। আছে একটা বাড়তি শক্তি। যা নেই অন্য দলগুলোতে। যেই শক্তিটা কাজে লাগিয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা, এবারের বিশ্বকাপেরও শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার আলবিসেলেস্তেরা। কী সেই এক্স ফ্যাক্টর বা বাড়তি শক্তিটা আর্জেন্টিনার?
আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা দলের একটি ছবি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পোস্ট করেছিলেন। সেখানে লেখা ছিল 'জুন্তোস' (JUNTOS), পাশে একটা আর্জেন্টিনার ফ্ল্যাগ দেয়া। স্প্যানিশ 'জুন্তোস' শব্দের অর্থ হলো একসাথে। এই 'জুন্তোস' বা একত্রে দল হয়ে খেলাই হলো আর্জেন্টিনার সিক্রেট ওয়েপন বা শক্তি।
অন্য ফুটবল দলগুলোর যে টিম বন্ডিং আর আর্জেন্টিনার যে টিম বন্ডিং, সেটাতে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। সামনে থেকে সবসময় পুরো দলকে আগলে রাখেন লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপ ছাড়া একটি জাতীয় দল বছরে হয়ত সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০টি ম্যাচ একসঙ্গে খেলেন। সব মিলিয়ে ১৫ থেকে ২০ দিন এই সতীর্থরা একসাথে সময় পার করেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা এই জায়গাতেই অনন্য, অন্য সবার থেকে আলাদা।
ক্লাব ফুটবলের যখন বিরতি থাকে, যখন তারা ছুটি পায়, আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা একসঙ্গে ছুটি কাটাতে যায়। তারা একটা ট্রাভেল ডেস্টিনেশন ঠিক করে, কখনো স্পেন, কখনো ইউএসএ আবার কখনো বা মালদ্বীপ। যে কোনো জায়গায় ডি পল, মেসি, এনজো ফার্নান্দেজরা একসাথে পরিবার নিয়ে সময় কাটায়।
এর ফলে, আর্জেন্টিনা দলে তৈরি হয়েছে এক বিশেষ ভ্রাতৃত্ব। লিওনেল মেসিকে তার দলের সতীর্থরা কেবলমাত্র অধিনায়ক হিসেবেই মানেন না, মানেন আইডল হিসেবে, বড় ভাই হিসেবে। মেসি তার সতীর্থদের ছোট-বড় সবার সঙ্গেই একইভাবে মেশেন।
এই ভ্রাতৃত্বের পেছনে অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে আলবিসেলেস্তেদের কোচ স্কালোনির। তিনি আর্জেন্টিনা দলের কোচ হওয়ার পর তাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সব সময় থাকেন সক্রিয়। শুধু তিনি নয়, দলের সবারই ইনপুট নেয়া হয় সেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। তাই তো ডি পল, ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজোরা ক্লাব ছেড়ে যখন জাতীয় দলে চলে আসেন তাদের চেহারাটাই, ফর্মটাই যেন বদলে যায়। এটাই আর্জেন্টিনার শক্তি, ভ্রাতৃত্ব এবং পরিবার। এর চেয়ে বড় শক্তি, এর চেয়ে বড় বন্ধন আর কী হতে পারে?
তাই তো আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপাজয়ের অন্যতম দাবিদার। তাই নয় কি?
/এনএ