ফুটবল বিশ্বকাপ বরাবরই যেমন রোমাঞ্চের, তেমনি কিছু রূপকথার মতো গল্পেরও জন্ম দেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে রোববার (১৪ জুন) তেমনই এক অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন গল্পের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ২-০ গোলের দাপুটে জয়ের রাতে সব আলো কেড়ে নিয়েছেন ২০ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার নেস্তরি ইরানকুন্ডা।
পৃথিবীর আলো প্রথম দেখেছিলেন তানজানিয়ার এক শরণার্থী শিবিরে। রোববার (১৪ জুন) সেই শরণার্থী শিবির থেকে উঠে এসে বিশ্বকাপের মতো মহাজাগতিক মঞ্চে নিজের অভিষেক ম্যাচেই গোল করে বসেন এই তরুণ তুর্কি। ইরানকুন্ডার এই আবেগঘন গোল আর কনর মেটকাফের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে তুরস্কের একের পর এক আক্রমণ সামলে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে সকারুজরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই তুরস্ক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ম্যাচের ২৭ মিনিটে তুরস্কের আক্রমণ রুখে দিয়ে এক অবিশ্বাস্য পাল্টা আক্রমণে মেতে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। মাঝমাঠ থেকে ক্ষিপ্র গতিতে বল নিয়ে ছিটকে যান নেস্তরি ইরানকুন্ডা। তুরস্কের রক্ষণভাগকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিখুঁত এক শটে বল জালে জড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। এই এক গোলেই ইতিহাস লিখে ফেলেন ইরানকুন্ডা, যার জীবনের লড়াই আজ সার্থক হলো বিশ্বকাপের সবুজ গালিচায়। গোল হজম করার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে তুরস্ক।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও যখন তুরস্ক গোলের জন্য হন্যে হয়ে লড়ছিল, ঠিক তখনই আবারও পাল্টা আক্রমণের পুরোনো ও চেনা কৌশলে আঘাত হানে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে গোলপোস্ট থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে বল পান মিডফিল্ডার কনর মেটকাফ। দূরপাল্লার এক দর্শনীয় ও জাদুকরী শটে তুরস্কের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি।
মেটকাফের এই দ্বিতীয় গোলে ২-০ ব্যবধানে লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় অস্ট্রেলিয়া। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত তুরস্ক আপ্রাণ চেষ্টা করেও একবারের জন্যও অস্ট্রেলিয়ার জাল খুঁজে পায়নি। ফলে ইরানকুন্ডার অভিষেক আর মেটকাফের গোল উদযাপনে ৩ পয়েন্ট পকেটে পুরে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া।
/এএ