ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬
কেমন হবে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচের শুরু, লাইনআপ ও পরিকল্পনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
ফাইল ছবি
ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা, এরপরই মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহাযজ্ঞের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপ নানা কারণেই অনন্য। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ৪৮টি দলের।
তবে এই ফুটবল মহোৎসবের মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার ঠিক ৯০ মিনিট আগে গ্যালারি মাতাতে আসছেন চারবারের গ্র্যামি জয়ী গ্লোবাল সুপারস্টার শাকিরা। তার সাথে সুরের জাদু ছড়াবেন কলম্বিয়ান গায়ক জে বালভিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার টাইলা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এই জমকালো আবহ শেষ হতেই রেফারি বাঁশিতে ফুঁ দেবেন, আর শুরু হবে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী মহারণ।
ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে এই ম্যাচটি ফুটবল ভক্তদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ১৬ বছর আগের এক স্মৃতিমধুর অতীতে। ২০১০ সালে আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল, যেখানে জোহানেসবার্গের মাঠে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়েছিল ম্যাচটি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মেক্সিকোর স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) আবারও সেই একই মঞ্চে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে তারা। তবে এবার সুবিধাটা মেক্সিকোর পক্ষে, কারণ ঘরের মাঠে ৮০ হাজারেরও বেশি উন্মাতাল লা ট্রাই ভক্তদের গগনবিদারী চিৎকারের সামনে খেলতে নামবে তারা। উপরন্তু, মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়াম ফুটবল ইতিহাসে প্রথম ভেন্যু হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপের (১৯৭০, ১৯৮৬ এবং ২০২৬) উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের এক অনন্য কীর্তি গড়তে যাচ্ছে।
উদ্বোধনী ম্যাচে ঘরের মাঠে মেক্সিকোর অভিজ্ঞ কোচ হাভিয়ের আগুয়েরে আক্রমণাত্মক কৌশলেই দল সাজাতে যাচ্ছেন। গোলপোস্টে রাউল রাঙ্গেলের ওপর আস্থার পাশাপাশি ডিফেন্সে অভিজ্ঞ সিজার মন্তেস ও জোহান ভাসকুয়েজের ওপর থাকছে রক্ষণ সামলানোর মূল দায়িত্ব। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রাখতে ব্রায়ান গুতিয়ারেজ ও আলভারো ফিদালগো খেলবেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। আর আক্রমণভাগে দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্স ভাঙার মূল গুরুদায়িত্ব থাকছে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল জিমেনেজ এবং গতির উইঙ্গার জুলিয়ান কুইনোনেসের কাঁধে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার ডাচ কোচ হুগো ব্রুস মেক্সিকোর আক্রমণ ঠেকাতে কিছুটা রক্ষণাত্মক ও প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ছক কষছেন। গোলপোস্টে অধিনায়ক তথা বিশ্বস্ত গ্লাভস রনওয়েন উইলিয়ামসের সাথে রক্ষণভাগে খুিলসো মুদাউ ও অব্রে মোদিবারা মেক্সিকান ফরোয়ার্ডদের আটকে রাখার দেয়াল তুলবেন। আর মাঝমাঠে তেবোহো মোকোয়েনার পাসিং এবং আক্রমণে বার্নলির তারকা স্ট্রাইকার লাইল ফস্টার ও ওসউইন অ্যাপোলিসের গতিই হতে যাচ্ছে বাফানা বাফানার মেক্সিকো বধের প্রধান অস্ত্র।
খাতা-কলমে এবং ফিফা র্যাংকিংয়ের ১৪ নম্বরে থাকা সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেবারিট। কোচ হাভিয়ের আগুয়েরের অধীনে মেক্সিকো দল টানা ৮ ম্যাচে অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপে পা রাখছে, যা তাদের ইতিহাসে বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ডের সমান। শেষ তিনটি প্রীতি ম্যাচেও তারা অস্ট্রেলিয়া, ঘানা এবং সার্বিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে টানা জয় তুলে নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছে। তবে ঘরের মাঠের এই বিপুল প্রত্যাশা এবং গ্যালারির চাপ সামলে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেওয়াটাই এখন মেক্সিকোর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফেরা দক্ষিণ আফ্রিকার দলটির প্রস্তুতি অবশ্য খুব একটা মসৃণ হয়নি। মেক্সিকো পৌঁছানোর আগে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের ভিসা জটিলতার কারণে তারা মেক্সিকোর আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায়নি। এমনকি তাদের সাম্প্রতিক ফর্মও চিন্তার কারণ; শেষ তিনটি প্রীতি ম্যাচে জ্যামাইকা ও নিকারাগুয়ার সাথে ড্র এবং পানামার কাছে হেরে জয়হীন থেকে তারা টুর্নামেন্ট শুরু করছে। তবে কোচ হুগো ব্রুসের স্পষ্ট বার্তা হল, গ্যালারিতে কী হচ্ছে তা ভুলে আমাদের নিজেদের গেমপ্ল্যানে ফোকাস করতে হবে।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, অতীতে মাত্র চারবারের দেখায় মেক্সিকো জিতেছে ২টিতে, দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে ১টিতে এবং বাকি ১টি ম্যাচ (২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ) ড্র হয়েছিল। এবারের গ্রুপ ‘এ’-তে এই দুই দলের সাথে বাকি দুই প্রতিপক্ষ হলো দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ১২টি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দলের পাশাপাশি সেরা ৮টি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলও প্রথমবারের মতো যুক্ত হওয়া ‘রাউন্ড অব ৩২’-তে জায়গা করে নেবে।
/এএ