২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ
অতিরিক্ত ফ্লাইটে বেশি কার্বন নিঃসরণ, জলবায়ু সংকট বৃদ্ধির শঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দূষণকারী আসরে পরিণত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদন। সম্প্রসারিত টুর্নামেন্ট কাঠামো, বিস্তৃত ভৌগোলিক আয়োজন এবং বিমান ভ্রমণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) ‘ফিফার ক্লাইমেট ব্লাইন্ড স্পট’ শীর্ষক সায়েনটিস্ট ফর গ্লোবাল রেসপন্সিবিলিটি, এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্স ফান্ড এবং দ্য স্পোর্ট ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্কের যৌথ প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইউরো নিউজ।
নিউ ওয়েদার ইনস্টিটিউটের একটি সমীক্ষা অনুসারে, ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে অন্তত ৯ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্যাস নিঃসরণ হতে পারে। যা ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপগুলোর গড় নিঃসরণের প্রায় দ্বিগুণ। আরও বিস্তৃত হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ ১৫ মিলিয়ন টন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা এটিকে ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম দূষণকারী আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
বেশি দল, বেশি ম্যাচ, বেশি দূষণ
প্রথমবারের মতো ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবে ৪৮টি দল এবং অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ। আগের আসরগুলোর তুলনায় ম্যাচ সংখ্যা প্রায় ৬৩ শতাংশ বেশি। ফলে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সমর্থকদের যাতায়াত উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এই সম্প্রসারণের ফলে বিশেষ করে বিমান ভ্রমণজনিত কার্বন নিঃসরণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিমান ভ্রমণ
২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ হবে উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহরে, যেগুলোর মধ্যে দূরত্ব অনেক ক্ষেত্রে হাজার হাজার কিলোমিটার। ফলে দল, সংবাদকর্মী এবং লাখো দর্শককে এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে মূলত আকাশ পথের ওপরই নির্ভর করতে হবে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র বিমান ভ্রমণ থেকেই ৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন টনের বেশি কার্বন নিঃসরণ হতে পারে, যা মোট নিঃসরণের সবচেয়ে বড় অংশ। আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় বিমান পরিবহন থেকে সৃষ্ট নিঃসরণ ১৬০ থেকে ৩২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
কাঠামোগত সমস্যার অভিযোগ
যদিও নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হওয়ায় কিছু পরিবেশগত চাপ কমবে, তবুও গবেষকদের মতে মূল সমস্যা টুর্নামেন্টের বর্তমান কাঠামো। তারা বলছেন, বিশ্বকাপ ক্রমেই বড়, আরও বৈশ্বিক এবং দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণনির্ভর হয়ে উঠছে।
এছাড়া ইউরোপ বা এশিয়ার মতো উত্তর আমেরিকায় বিস্তৃত উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক না থাকায় পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার বিকল্পও সীমিত। যা পরিবহন থেকে কার্বন নিঃসরণ বাড়াবে।
ফিফার জলবায়ু নীতির সমালোচনা
ফিফার জলবায়ু কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে প্রতিবেদনে। গবেষকদের দাবি, পরিবেশ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে দল ও ম্যাচ সংখ্যা বৃদ্ধি এবং দূরবর্তী শহরগুলোকে ভেন্যু হিসেবে নির্বাচনের মাধ্যমে ফিফা নিজেদের ঘোষিত লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে।
তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যখন বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে, তখন ২০২৬ বিশ্বকাপ উল্টো বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে।
ফিফার বক্তব্য
ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে একটি টেকসই উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে। সংস্থাটি বলছে, স্টেডিয়াম ও অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণে পরিবেশবান্ধব মানদণ্ড অনুসরণ, গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান, বর্জ্য ও জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ফিফার দাবি, আয়োজক শহরগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইতিবাচক উত্তরাধিকার সৃষ্টি করবে। তবে প্রতিবেদন প্রণেতারা মনে করেন, এসব উদ্যোগ টুর্নামেন্টের সামগ্রিক পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়।
/এনএ