রিয়াল-বার্সার বিদায় ঘণ্টা নাকি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
ইউরোপসেরার মঞ্চে যখন স্প্যানিশ রাজত্বের অবসান ঘটার উপক্রম হয়, তখনই ফুটবল বিশ্ব ফিরে তাকায় ইতিহাসের সোনালী পাতায়। তবে এবার কি শেষ রক্ষা হবে? চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগ শেষে স্প্যানিশ দুই জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা এখন খাদের কিনারায়। নিজেদের মাঠে হারের ক্ষত নিয়ে এখন তাদের সামনে মিশন ‘অ্যাওয়ে কামব্যাক’। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন বায়ার্ন মিউনিখ আর রক্ষণাত্বক অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, তখন কাজটা মোটেও সহজ নয়।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সেই পরিচিত গর্জন এবার স্তব্ধ করে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদকে এখন পাড়ি দিতে হবে জার্মানির কঠিন পথ। পরিসংখ্যান বলছে, নিজেদের মাঠে প্রথম লেগ হারার পর ইতিহাসে মাত্র একবারই ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। তবে বায়ার্নের হ্যারি কেন আর লুইস দিয়াজদের থামাতে হলে রক্ষণে আন্টনিও রুডিগারকে হতে হবে দেয়ালের মতো অটল। শেষ মুহূর্তে এমবাপ্পের গোলটি রিয়ালকে লাইফলাইন দিলেও, অ্যালায়েন্স অ্যারেনায় বেলিংহাম-ভিনিসিয়ুসদের দিতে হবে অগ্নিপরীক্ষা।
অন্যদিকে, কাতালানদের অবস্থা আরও করুণ। ঘরের মাঠে ১০ জনের দল নিয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে বার্সেলোনা। দিয়েগো সিমিওনের দলের বিপক্ষে দুই গোলের ব্যবধান ঘুচানো মানে হচ্ছে লোহার চানা চিবানো। বার্সেলোনার প্রত্যাবর্তনের মূল মন্ত্র হতে হবে হাই-প্রেসিং এবং সৃজনশীল আক্রমণ। অ্যাটলেটিকোর রক্ষণ ভাঙতে ল্যামিন ইয়ামালের গতি আর পেদ্রি- লোপেজ নিখুঁত পাসিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। শুরুতেই একটি গোল আদায় করতে পারলে সিমিওনের 'বাস পার্কিং' কৌশল এলোমেলো হয়ে যাবে; আর সেই সুযোগে লেভানডস্কির ফিনিশিং দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দুই গোলের ব্যবধান ঘুচাতে পারবে বলে মনে করেন স্পোর্টস বিশেষজ্ঞরা ।
ফুটবল ইতিহাসে অলৌকিক কিছু ঘটার নজির কম নেই। ২০১৮-১৯ মৌসুমে লিভারপুল কিংবা ২০১৯ সালে টটেনহ্যাম যেভাবে ফিরে এসেছিল, ঠিক তেমন কিছুরই অপেক্ষায় এখন ফুটবল বিশ্ব। স্প্যানিশ দুই জায়ান্ট কি পারবে অ্যাওয়ে ম্যাচে সেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটাতে ? উত্তর মিলবে দ্বিতীয় লেগের সেই মহানাটকীয় রাতে, যেখানে একপাশে থাকবে হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের জেদ আর অন্যপাশে থাকবে শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসন ধরে রাখার লড়াই। সমীকরণ যাই হোক, বিশ্ব ফুটবল আরও একবার প্রস্তুত এক রোমাঞ্চকর রাতের সাক্ষী হতে।
/এএ