×
Logo

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আনাদুলু এজেন্সির প্রতিবেদন

সমুদ্রের তলদেশের প্লাস্টিক বর্জ্য শনাক্তে 'ডিপলিটারএআই' সিস্টেম তৈরি জাপানি গবেষকদের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

সমুদ্রের তলদেশের প্লাস্টিক বর্জ্য শনাক্তে 'ডিপলিটারএআই' সিস্টেম তৈরি জাপানি গবেষকদের

একটা সময় ছিল, যখন মানুষ, সমুদ্রের তলদেশে থাকা বর্জ্য টিভি কিংবা সংবাদপত্রে দেখে হতাশা প্রকাশ করতো। কারণটাও স্বাভাবিক। সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে সঠিক জায়গা শনাক্ত করে বর্জ্য অপসারণ করার জন্য 'প্রপার টেকনলজি' ছিল না। তবে, জাপানি গবেষকরা সেই সমস্যার জন্য একটি নতুন সমাধান নিয়ে এসেছে। 

সমুদ্রের তলদেশে জমে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি তৈরি করেছেন জাপানের গবেষকরা। নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিয়েল টাইমে সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্যের অবস্থান ও পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপান এজেন্সি ফর মেরিন-আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকেরা 'ডিপলিটারএআই' নামের এই এআই সিস্টেমটি তৈরি করেছেন। 

দেশটির সংবাদ সংস্থা কিয়োদো, পরিবেশ দূষণ সাময়িকীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সিস্টেমটি মানুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গতিতে সমুদ্রের তলদেশের ছবি বিশ্লেষণ করতে পারে।

১২ হাজার ছবি দিয়ে প্রশিক্ষণ

'ডিপলিটারএআই' তৈরির জন্য প্রায় ১২ হাজার ছবির একটি ডেটাসেট তৈরি করেছেন গবেষকেরা। ১৯৮৩ সাল থেকে সংস্থাটির সংগ্রহ করা সমুদ্রের তলদেশের ভিডিও ফুটেজ থেকে এসব ছবি নেওয়া হয়েছে।

ছবিগুলোতে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট বর্জ্য যেমন ছিল, তেমনি ছিল পাথর ও সামুদ্রিক প্রাণীর ছবিও। এসব বস্তুর অনেকগুলো দেখতে বর্জ্যের মতো হওয়ায় সেগুলো শনাক্ত করতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

ভুল শনাক্তকরণ কমাতে ঝাপসা করা ও ছবি উল্টে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তিত ছবি ব্যবহার করে এআই সিস্টেমটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্লাস্টিক বর্জ্য শনাক্তে কতটা কার্যকর?

সমুদ্রে প্রবেশ করা প্লাস্টিক বর্জ্যের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত তলদেশে গিয়ে জমা হয়। কিন্তু সাগরের তলদেশে থাকা এসব বর্জ্য সঠিকভাবে শনাক্ত করা এখনো বেশ কঠিন।

বাস্তব সমুদ্রের ভিডিও ফুটেজ দিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকেরা দেখেছেন, ছবির প্রস্থের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ জায়গাজুড়ে থাকা ছোট বর্জ্যও শনাক্ত করতে পারছে 'ডিপলিটারএআই'। একই সঙ্গে বর্জ্যের ধরন ও পরিমাণও নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে সিস্টেমটি।

পরীক্ষায় প্লাস্টিকের বোতল-পলিথিনের ব্যাগসহ বড় ধরনের বর্জ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ সফলভাবে শনাক্ত করেছে এআই সিস্টেমটি। বিশেষজ্ঞদের সরাসরি পর্যবেক্ষণের সঙ্গে তুলনা করলে এর ফলাফলে ভুলের হার ছিল প্রায় ১০ শতাংশ।

দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ

গবেষণা দলের সদস্য ও সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী রিয়োতা নাকাজিমা বলেন, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সমুদ্রের কোন কোন এলাকায় বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমা হচ্ছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তার মতে, এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং সামুদ্রিক দূষণ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।

গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে 'ডিপলিটারএআই' ব্যবহার করে সমুদ্রের তলদেশে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিস্তার নিয়মিত ও তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে কোথায় বর্জ্য বেশি জমছে, কী ধরনের বর্জ্য রয়েছে এবং কোন এলাকাগুলোতে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

/এআই 

Logo