পাটওয়ারীর নোংরা ভাষার জবাব নোংরা ভাষায় দেওয়া ঠিক হয়নি: রাশেদ খাঁন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে নিজের দেওয়া অতীতের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, পাটওয়ারীর ‘নোংরা ভাষার’ জবাব নোংরা ভাষায় দেওয়া তার ঠিক হয়নি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের আগের মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এ অবস্থান জানান।
পোস্টে রাশেদ খাঁন বলেন– নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অতীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী, কন্যা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে তীর্যক, অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। এর প্রেক্ষাপটে কয়েক মাস আগে তিনি অসাবধানতাবশত একটি উদাহরণমূলক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ন্যূনতম পরিশীলিত রাজনীতি করলে, হয়তো কখনোই আমার এমন উদাহরণ দেওয়া লাগতো না। এছাড়া, পাটওয়ারী আমাকে নিয়েও অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলায় বিষয়টি ব্যক্তিগত সংক্ষুব্ধতা ও তিক্ততায় রূপ নেয়।
রাশেদ খাঁন বলেন, এ বিষয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে আর কথা না বলার জন্য পাটওয়ারী আমাকে কলও করেছিলেন, যে বিষয়ে আমিই আগেই জানিয়েছিলাম। কিন্তু ৫-৬ ঘণ্টা পর তিনি তার কমিটমেন্ট ব্রেক করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা নিয়েও তার মন্তব্যের বিষয়টি সবার নজরে এসেছে।
তবে এসবের জবাবে নিজের ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে আত্মসমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, তার প্রতিক্রিয়া ‘টিট ফর ট্যাট’-এর মতো হলেও এমন ভাষা ব্যবহার করা ঠিক হয়নি বলে অনেকেই মনে করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ২০২৪ পরবর্তী রাজনীতির গতিপথে দেশ গঠন, মানবিক মর্যাদা ও বৃহত্তর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। সে কারণে নিজের অবস্থান থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাষাগত ভুলের জন্য তা প্রত্যাহার করে ভবিষ্যতে নিজেকে সংশোধনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিসরে গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সহনশীলতা ও পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই বিএনপি নেতা।
নিজের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অভিযাত্রায় তিনি সবসময় সহনশীল থাকা এবং ভাষা ব্যবহারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছেন। এই প্রচেষ্টা ও সতর্কতা সবসময় অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
রাশেদ খাঁন বলেন, আমি মনে করি, ঘৃণা ছড়িয়ে আমরা কেউই লাভবান হতে পারব না। তাতে কেবল বিরাজনীতিকরণের উদ্দেশ্যে বসে থাকা গোষ্ঠী উপকৃত হবে।
/এএম