×
Logo

রাজনীতি

জামায়াত থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার; এমপি পদের কী হবে?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

জামায়াত থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার; এমপি পদের কী হবে?

নৈতিক স্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বুধবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টু রোডের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের আমিরর ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নাম্বার ধারা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওই বৈঠকে। 

একই সাথে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাত থেকে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে থাকে। যেখানে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। ভিডিওটি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জামায়াত থেকে বলা হয়, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে। ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর দলের সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এর একদিনের মাথায় এবার দল থেকে বহিষ্কৃত হলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

এমপি পদ হারানো নিয়ে সংবিধানের ধারায় কী আছে?

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ তখনই শূন্য হয়, যদি কোনও সদস্য যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন।

আইনজীবীদের মতে, দলীয় বহিষ্কার বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই।

তবে ফৌজদারি মামলায় তিনি যদি এমনভাবে দণ্ডিত হন, যাতে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে তিনি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তখন বিষয়টি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে। আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন দেখা দিলে সংবিধানের ৬৭(২) অনুযায়ী বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নিকট যাবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত দেবেন।

এছাড়া, কোনও ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়া, নৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা বা অভিযোগ ওঠার কারণে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার কোনও বিধান সংবিধানে নেই। সংবিধানে এমন কোনও অনুচ্ছেদ নেই, যেখানে শুধু অভিযোগ বা নৈতিক সমালোচনার ভিত্তিতে সরাসরি সদস্যপদ বিলুপ্তি হবে।

/এমএন

Logo