জুলাই পদযাত্রায় কৌশল বদল
তৃণমূল থেকেই নারী নেতৃত্ব তৈরিতে তৎপর দল— বললেন এনসিপি নেতারা
লামিয়া তিথি
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
এবার জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচিতে কৌশল বদল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল দুই ভাগে ভাগ করে ৫৮ জেলায় কর্মসূচি পরিচালনা করছে দলটি। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি সীমিত রেখে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় নারীদের মধ্যে জাতীয়ভাবে রাজনীতিতে পরিচিত বা জনপ্রিয় মুখের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে।
এনসিপির দাবি— তৃণমূলের নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতেই এই পরিবর্তন। যদিও দলটির কয়েকজন নেত্রী বলেন, জামায়াতের সঙ্গে ১১ দলীয় জোটেরও প্রভাব রয়েছে।
মূলত, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সামনের সারিতে ছিলেন অসংখ্য নারী ও তরুণ। আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন তারা। সেই আন্দোলনের পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। একই বছরের জুলাইয়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে জনসংযোগ শুরু করে দলটি।
এক বছর পর আবারও শুরু হয়েছে জুলাই পদযাত্রা। তবে এবার আগের তুলনায় পরিচিত নারী নেত্রীর সংখ্যা কম। কেন পরিচিত নারী মুখ কমেছে এর জবাবে এনসিপির নারী নেত্রীরা বলেন, তৃণমূলের নারীদের নেতৃত্বে আনার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন। তবে জামায়াতের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যেরও কিছু প্রভাব আছে।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, দলের নিজস্বভাবে নারী নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তবে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটে থাকা অন্যান্য ইসলামপন্থী দলের নারী অধিকার, নারীদের অংশগ্রহণ এবং সমাজে তাদের ভূমিকা নিয়ে এনসিপির মতো একই অবস্থান নেই। তার মতে, নারী প্রশ্নে অন্য ১০টি দলের মধ্যে এখনো দোদুল্যমানতা রয়েছে এবং জোটে থাকার কারণে সেটির প্রভাব এনসিপির ওপরও পড়ছে।
অন্যদিকে, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, এবার শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্বকে সামনে আনা হচ্ছে। পদযাত্রায় সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী নেত্রীরাই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সুতরাং সেই জায়গা থেকে আমাদের দেখা গেছে এলাকা বিশেষে যারা যেই এলাকার দায়িত্বে, সেই এলাকায় যুক্ত হচ্ছেন তারা।
নারী নেতৃত্ব বিকাশের বিষয়ে মনিরা শারমিন বলেন, রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে আগে সামাজিক নেতৃত্বে তাদের উৎসাহিত করতে হবে। এরপর সেই নেতৃত্বকে রাজনীতিতে যুক্ত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকেই উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি মনে করেন, তৃণমূল থেকেই নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার দায়িত্ব সব রাজনৈতিক দলের।
সামান্তা শারমিন বলেন, রাজনীতির ক্ষেত্র এখনো নারীদের জন্য কণ্টকাকীর্ণ। নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বাধা অতিক্রম করে নারীদের রাজনীতিতে আনতে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। তার ভাষ্য, ছোট ছোট উদ্যোগ থাকলেও কার্যকর বিশেষ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে।
এদিকে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানান, এবার প্রায় ৫৮ জেলা এবং ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় জুলাই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সীমিত রেখে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরই বেশি সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল এই দুই ভাগে কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি টিমে কেন্দ্রীয় নেতাদের সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরই বেশি সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, কারণ এই মুহূর্তে দলের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করা।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ১১ দলীয় জোটে যায় এনসিপি। এরপর দল ছেড়েছেন কয়েকজন নেতা। আবার কেউ কেউ স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
/এএন/এমএইচ