লাইক ফর লাইক সাবস্টিটিউশন কী?

|

লাইক ফর লাইক সাবস্টিটিউশন। ক্রিকেট দুনিয়ায় নতুন আইন। এই অ্যাশেজ থেকেই আইনটা শুরু করেছে আইসিসি। এর ফলে, টেস্ট ক্রিকেটে এখন ‘আহত’ খেলোয়াড়ের বদলি পাওয়া যাবে। যার বদৌলতে স্টিভ স্মিথের বদলি হিসেবে রোববার মাঠে নেমেছেন মারনাস লেবুশেন। এতেই গড়েছেন ইতিহাস। কারণ, ইতিহাসে লেবুশেনই প্রথম লাইক ফর লাইক বদলি (একই রকম বদলি) খেলোয়াড়।

তবে বদলি পেতে যেকোনো ভাবে আহত হলেই হবে না। মাথায় আঘাত লাগতে হবে এবং অচেতন হতে হবে এবং চিকিৎসকদের বলতে হবে যে, আঘাতপ্রাপ্ত খেলোয়াড়ের মাঠে নামা ঝুঁকিপূর্ণ। খুব কাকতালীয়ভাবে স্মিথের ক্ষেত্রে এর সবই ঘটেছে। তাই বদলি পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আইনে বলা আছে, আহত খেলোয়াড় শুধু ব্যাটসম্যান হলে তার বদলি অলরাউন্ডার নামানো যেতে পারে, তবে সে ব্যাটিং ছাড়া কিছৃু করতে পারবে না।

শনিবার স্মিথের মাথার চোট যে কতটা গুরুতর ছিল সেটি বোঝা গেছে যখন রোববার তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মারনাস লেবুশেন। সেদিন সেটি বোঝা যায়নি। বলা ভালো স্মিথই সুযোগ দেননি। কানের নিচে বল আঘাত হানার পর মাঠ ছেড়েছিলেন। কিন্তু আধ ঘণ্টা পরে দলের প্রয়োজনে আবার মাঠে নেমে ১২ রানও করেছেন। কিন্তু রোববার লর্ডস টেস্ট থেকে নাম কেটে গেছে স্মিথের। কনকাশনের ভয় থাকায় পঞ্চম দিনে স্মিথকে আর দেখা যাবে না। আর লাইক ফর লাইক বদলি (একই রকম বদলি) হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছেন মারনাস লেবুশেন।

মাঠে বদলি খেলোয়াড় নামাটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই বদলি খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ ফিল্ডিং করতে পারেন। কিন্তু কনকাশনের (মাথায় আঘাত) বদলি হিসেবে নামা খেলোয়াড় ব্যাটও করতে পারবেন। এরই মাঝে স্মিথের বদলি হিসেবে নামা লেবুশেন স্মিথের জায়গাতেই অর্থাৎ চারে ব্যাট করতে নেমেছেন। স্মিথের মতোই দায়িত্বশীল ব্যাটিংও করছেন। তবে, আরেকটি মিলও দেখা গেছে স্মিথের সাথে তার ‘লাইক ফর লাইক’র। জফরা আর্চারের বলেই মাথায় আঘাত পেয়ে উইকেটের ওপর পড়ে গিয়েছেন লেবুশেন, স্মিথের মতোই!

আইসিসির এই নিয়মে একজন ব্যাটসম্যান যদি আঘাত পান, তবে তার বদলে একজন ব্যাটসম্যানই নামানো সম্ভব। বোলারের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু জটিলই। কারণ পেসারের বদলি পেসার, স্পিনারের বদলি স্পিনার! অবশ্য, নিয়মটাকে মানবিকই রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ম্যাচ রেফারিই ঠিক করে দেবেন অনেক কিছু। যেমন একজন ব্যাটসম্যানের বদলে একজন অলরাউন্ডার নামলে তিনি কী করতে পারবেন সেটা ম্যাচ রেফারিই বলে দিতে পারেন। কারণ আইসিসির নিয়মে কোথাও বলা নেই যে তিনি বোলিং করতে পারবেন না।

তবে, শনিবার স্মিথের বদলে নাথান লায়ন চোট পেলে কী করা হতো সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডেই অফ স্পিনার যে ওই একজনই!









Leave a reply