‘উষ্ণতা’

|

লোটাস জোহা

একটু উষ্ণতা পাবার আশায়,
কতো ভাবে খুঁজেছি তোমায়।
মেঘের পিঠে চড়ে উড়ে উড়ে
তেপান্তর পেরিয়ে দৃষ্টিরও আড়ালে
চলে গেছি দূর সীমা ছাড়িয়ে।

একটু উষ্ণতা পাবার আশায়
তোমাকে ডেকেছি কতভাবে কতবার,
হাজার মাইল পাড়ি দেয়া ক্লান্ত ডাহুকের মত;
চিৎকারে চূর্ণ করেছি বিরহী নিশুতিরাত।

আমি উষ্ণতা খুঁজেছি তোমার বুকে, শরীরে, অঙ্গের ভাজে ভাজে, আঁচল তলে।

আমি কান পেতে থেকেছি অনন্তকাল
উন্মাদ কালবৈশাখী ঝড়ে, পৃথিবীর অপরপ্রান্ত থেকে বয়ে আসা মৃদু বাতাসে।

খসে পড়েছে হাজার বছরের উল্কা নিহারিকা কত নক্ষত্র
হারিয়েছে পৃথিবীর পথে, জঙ্গলে
সাগর জলের অতল গভীরে।
আছড়ে পড়েছে আমার ক্ষুদ্র বুকে।
নিভে গেছে সব আগুন হিমালয় বরফে।
কোনো উত্তর আসেনি তার।

আমাকে উষ্ণতা দিয়েছে
পেকে যাওয়া ধান ক্ষেতের ভাপে ভরা বাতাস।
মজুরের শরীর থেকে বের হওয়া লোনা জলের আর্তনাদ।
দিন শেষে ক্লান্তির ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে পাবলিক বাসে একটু ঠাই পাওয়ার যুদ্ধে জয়ী মানুষের বিষাদের উত্তাপ।
পাঁচ বছরের যে শিশু তার পঞ্চাশ বছরের পিতাকে পথ দেখিয়ে উপার্জন খোঁজে তার প্রতিটা নিঃশ্বাসে।
বহুবছর আগে নিরুদ্দেশ হওয়া স্বামীর রেখে যাওয়া বোঝা একলা হাতে টেনে চলা পাঁচ সন্তানের জননীর জীর্ণ শরীরে।

টোঙ দোকানের বিষন্ন চায়ের কাপের উড়ে যাওয়া দীর্ঘশ্বাসে। বড় আবদারে চাওয়া হিজড়ার দশ টাকার নোটের মাঝে।

আমি উষ্ণতা খুঁজে ফিরি পৃথিবীর পথে পথে।









Leave a reply