পুলিশি সেবাকে দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে ওসি’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

|

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:

এবার পুলিশি সেবাকে মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দিলেন মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানার ওসি শাহ মো: আওলাদ হোসেন পিপিএম।

পুলিশ আর জনগণের মাঝে বন্ধুত্বমূলক সেতুবন্ধন রচনা করতে তিনি উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের ১৩০টি ওয়ার্ডে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিটিও গঠন করেছেন।

এর মাধ্যমে সমাজের ছোটখাটো অপরাধীদের সামাজিকভাবেই কমিটির দায়িত্বে ভালো হবার সুযোগ দেয়া হবে। ফলে এখন থেকে আর ছোটখাটো সমস্যার জন্য থানায় যেতে হবেনা, ছোট সমস্যাগুলোর সমাধান এর মাধ্যমেই সমাধান করা হবে।

কমিউনিটি পুলিশিং এর জন্য প্রতি কমিটিতে ১০ জন উপদেষ্টা ও ২৫ জন সদস্য রাখা হয়েছে। এনিয়ে সর্বমোট টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় কাজ করবে ৪৫০০ জন কমিউনিটি পুলিশ সদস্য। মূলত যাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের কোন অভিযোগ নেই এবং সমাজে যারা সজ্জন হিসেবে পরিচিত তাদেরই এই কমিটির সদস্য করা হবে।

টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ্ মো: আওলাদ হোসেন জানান, কমিউনিটি পুলিশ মানে সমাজের পুলিশ। যাদের প্রধান কাজ সমাজের সামাজিক সমস্যা ও অপরাধমূলক কাজ কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে নিবারণ করা। কোন কারণে তারা সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হলে তা থানায় মাধ্যমে আইন অনুযায়ী সমাধান করা হবে।

এরই মধ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উদ্যোগে আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে চিহ্নিত ও সাজাপ্রাপ্ত সহ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ী পুলিশ সুপার মোঃ জায়েদুল আলম পিপিএম এর কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং ভাল হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ইতিমধ্যে গত ৭ আগস্ট থেকে আত্মসমর্পণ করা মাদক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

টঙ্গীবাড়ী থানার এই অফিসার ইনচার্জ জানান, জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা পুলিশি ভীতি দূর করে গণমুখী পুলিশিং কার্যক্রম স্থাপন করতেই এ উদ্যোগ।

জনবান্ধবমূলক এই কর্মসূচি সম্পর্কে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ জায়েদুল আলম পিপিএম বলেন,- টঙ্গীবাড়ীর ওসি যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন আমি মনে করি নিঃসন্দেহে এটা আমার আমার প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যে লক্ষ্য, যে পুলিশের সেবা জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়া তা সহজেই বাস্তবায়ন সম্ভব।

স্থানীয় সাংসদ জনাব সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেন, আমাদের টঙ্গীবাড়ী থানার ওসি অনেক পরিশ্রম করে প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠনের মাধ্যমে যে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন তা ব্যাপক প্রশংসনীয়। আমি এই জনবান্ধব কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে সর্বাত্মক সহযোগীতা করে জনতা ও পুলিশের সেতু বন্ধন সৃষ্টি করতে চাই।









Leave a reply