সাকিবের লাকি থার্টিন

|

রিফাত এমিল:

২০০৬ সালের আজকের দিনে সাকিব আল হাসানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। দেশের ৮২তম ওয়ানডে ক্রিকেটার হিসেবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে অভিষেক হয় ১৯ বছর বয়সী সাকিবের।

ম্যাচে টস জেতা জিম্বাবুয়ে আগে ব্যাটিং করলে দলের পঞ্চম বোলার হিসেবে আক্রমণে আসেন সাকিব। ১০ ওভারে ৩৯ রান খরচায় এলটন চিগুম্বুরাকে বোল্ড করেন। আর ব্যাট হাতে চার নাম্বারে নেমে ৬৪ মিনিটে ৪৯ বলে ২ চারে অপরাজিত ৩০ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। শাহরিয়ার নাফিসের শতকে বাংলাদেশ আট উইকেটের জয় পায়। সাকিবের ক্যারিয়ারের শুরুটা জয় দিয়ে। ব্যাটে বলে পারফর্ম করা সাকিবকে অনেকেই দেখল প্রতিশ্রুতিশীল এক অলরাউন্ডার হিসেবে।

এরপর, সময় যতো গড়িয়েছে সাকিব আর বাংলাদেশ ক্রিকেট যেন হয়ে উঠেছে একে অপরের সমার্থক। দিনের পর দিন, ম্যাচের পর ম্যাচ পারফর্ম করে যাওয়া। কখনো ভেন্যু বদলেছে, কখনো দেশ; কিন্তু তার পারফরমেন্স ও বাংলাদেশ দলের প্রতি নিবেদন যেন একই আছে। আমরা সমর্থকরাও যেন সাকিবে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আশাভরসার প্রতীক সাকিব, সাকিবেই জয়ের স্বপ্ন বোনা। কখনো সাকিব সে স্বপ্ন পূরণ করে, কখনো ব্যর্থ হয় কিন্তু তার চেষ্টার কমতি থাকে না।

দ্রুত কয়েক উইকেট পড়ে গেছে! আরে ব্যাপার না, সাকিব আছে। বড় পার্টনারশিপ হয়ে গেছে প্রতিপক্ষের, দ্রুত উইকেট নেওয়া দরকার? আরে সাকিব আছে। বাউন্ডারি লাইন কিংবা বৃত্তের ভেতর দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে নজর কেড়েছেন নিয়মিত। প্রায় এক যুগ এসবই দেখে আসছি আমরা।বারবার ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে টেনে তোলা। আমাদের জিততে শেখানো, মনে বিশ্বাস জাগানো যে আমরাও পারি প্রথম হতে।

কে জানতো, মাগুরার ফয়সাল একদিন বিশ্বসেরা সাকিব হয়ে উঠবেন? আলোকদিয়ায় বাসের ছাদে চড়ে খ্যাপ খেলতে যাওয়া ফয়সাল এখন বিমানে চড়ে খেলতে যায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। মজার ছলে এক প্যাকেট এলাচি বিস্কুট জয়ের জন্য বাজির ম্যাচ খেলা ফয়সাল এখন বিপিএলে এক ম্যাচ সেরা হয়েই জেতে পাঁচশত ইউএস ডলার। মাঝে অনেক গল্প, অনেক ত্যাগ আর ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা।

পাড়ার ক্রিকেটে দল ভাগের সময় সে চাইত তাকে যেন সবার আগে দলে নেয়। সে সবার আগে ব্যাটিং, সবার আগে বোলিং করতে চাইত। জয়ের নেশা, পারফর্ম করার নেশা তো তার ছোটবেলা থেকেই।

তার একজন ক্ষুদে ভক্ত হিসেবে আমি তাকে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারের একদম ছোট্ট তালিকায় দেখতে চাই। তার অবসর নেওয়ার পর অলরাউন্ডার শব্দ এলেই যেন কেউ প্রথমে তার নাম নেয়! আমরা অনেককাল পৃথিবীর অন্যান্য দেশের লোকজনের মতো হতে চেয়েছি; অন্য দেশের লোকজন অন্তত ক্রিকেটার হতে চাইলে যেন আমাদের সাকিবের মতো হতে চায়।

বাংলাদেশের সাকিব ‘সেরা’ অলরাউন্ডার! এ কথাটার তাৎপর্য অনেক গভীর; আমি মাঝেমধ্যে এই কথাটা অনুভব করি। খুব কম ক্ষেত্রেই আমাদের কেউ দুনিয়ার সেরা একজন হতে পেরেছে। সাকিব তার মধ্যে অনন্য। সে বিশ্বাস জুগিয়েছে, ভাত-মাছ খাওয়া কেউ-ও পৃথিবীর সেরা একজন হতে পারে।

সাকিব,

এদেশের ক্রিকেটের সবকিছুতে পাওয়া যাবে আপনাকে। আমাদের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মহাকাব্য তো আপনিই। আমি আপনাকে সম্মান করি আর বিশ্বাস করি আপনি সে সম্মানের মর্যাদা রাখবেন সারাটা জীবন। আপনি শুধু একজন ক্রিকেটার না তার চেয়েও বেশিকিছু।

১৩ বসন্ত পার সাকিব, আরো বহু পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। শুভকামনা সুপারম্যান।









Leave a reply