মসলার বাজারে ঈদের ‘গরম’

|

কোরবানির মাংস রান্নায় প্রধান উপকরণ মসলা। এজন্য ঈদুল আজহার আগে মসলার চাহিদা থাকে অনেক বেশি। আর এ সুযোগে সক্রিয় মৌসুমি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। তারা এ বছর ঈদ আসার এক মাস আগেই সংকট দেখিয়ে মসলার দাম বাড়ানো শুরু করে; যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তাই মসলার বাজার এখন রীতিমতো উত্তপ্ত। এতে দিশেহারা সাধারণ ভোক্তারা। তারা বলছেন, এসব ব্যবসায়ীদের কারসাজি; যা নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার।

সরেজমিন রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শনিবার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা কেজি; যা এক মাস আগে ছিল ২৫-৩০ টাকা। প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা; যা এক মাস আগে ছিল ১০০-১২০ টাকা। আদা মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৬০-২০০ টাকা কেজি; যা এক মাস আগে ছিল ১৩০-১৬০ টাকা। দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৪৬০ টাকা কেজি; যা এক মাস আগে ছিল ৩০০-৩৫০ টাকা। এলাচ বিক্রি হচ্ছে ২৭০০-২৮০০ টাকা কেজি; যা এক মাস আগে ছিল ১৮৫০-২১০০ টাকা। তেজপাতা বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা; যা এক মাস আগে ছিল ৮০-১০০ টাকা। এছাড়া জয়ত্রী ১৫০০-১৮০০, কিসমিস ৪৫০-৬৫০, আলু বুখারা ৫০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে মসলা কিনতে হচ্ছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু ক্রেতারা এসে আমাদের ধরেন। অনেক সময় কথাকাটাকাটি হয়। কিন্তু আমাদের মতো খুচরা বিক্রেতাদের দাম বাড়ানোর পেছনে কোনো হাত নেই। কারওয়ানবাজারের উপহার স্টোরের বিক্রেতা চুন্নু মিয়া যুগান্তরকে বলেন, মসলার বাজার পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। আমদানি কম হলে বাজারে সরবরাহ কম থাকে। এতে কিছুটা দাম বেড়ে যায়। তবে কোরবানির ঈদ এলেই মসলা আমদানিকারকরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেয়। তারা দাম বাড়ালে আমাদের মতো পাইকারদেরও বাড়তি দামে কিনতে হয়; যার প্রভাব খুচরা বাজারে এসে পড়ে।

কারওয়ান বাজারে মসলা ক্রেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, যে যেভাবে পারছে সেভাবেই মসলা বিক্রি করছে। কোরবানির ঈদ এলেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা সব ধরনের মসলার দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পত্রিকা ও টেলিভিশনে দেখছি সরকারের সংস্থা ভোক্তা অধিদফতর বাজার মনিটরিং করছে। কিন্তু তারপরও দাম কমছে না। মনে হচ্ছে তাদের কার্যক্রমের কোনো প্রভাব বাজারে পড়ছে না। তাই মনিটরিং আরও জোরদার করতে হবে। তা না হলে সাধারণ ক্রেতাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আমরা বাজার মনিটরিং করছি। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপের পর ডেঙ্গু টেস্টের বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেদিকে মনিটরিং জোরদার করতে হয়েছে। লোক সংকটে বাজারে একটু কম তদারকি করা হয়েছে। তবে এখন থেকে ঈদের আগপর্যন্ত ব্যাপকভাবে মনিটরিং করা হবে। অসাধুদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এদিকে মসলার অন্যতম পাইকারি আড়ত চকবাজারে গিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এলাচের। এছাড়া গত তিন থেকে চার সপ্তাহে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে দারুচিনি, তেজপাতা ও বাদামের দাম।









Leave a reply