স্নেহ-ভালোবাসার দাম আড়াই কোটি টাকা?


ভালোবাসা বা স্নেহের কি কোনো আর্থিক মূল্য হয়? এক মুহূর্ত চিন্তা না করেই বলা যায়, না। ভালোবাসা বা স্নেহের কোনো মূল্য হয় না। পৃথিবীর কোনো মূল্য মানে এগুলো মাপা যায় না। পুরোটাই হৃদয়ঘটিত আবেশের ব্যাপার। ভালোবাসা বা স্নেহের বিনিময় তো শুধুই ভালোবাসা আর স্নেহ-ই। অর্থ দিয়ে কী আত্মিক আকুতি মেটে!

তবে মানুষের জীবনে কখনো এমন ক্রান্তিকালও আসে, যখন সত্যিই ভালোবাসার মূল্য দাবি করতে হয়। চাইতে হয়, প্রিয় মানুষের সংস্পর্শ থেকে বঞ্চিত হওয়ার মূল্য। যেমনটি ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত খ্যাতনামা চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদের ক্ষেত্রে।

ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষ থেকে চাওয়া ক্ষতিপূরণের তালিকা

তারেকের মৃত্যুর ঘটনায় নানা বিষয়ে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ক্যাথরিন ভালোবাসা ও স্নেহের ক্ষতি (লস অব লাভ অ্যান্ড অ্যাফেকশন) পূরণ বাবদ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা দাবি করেছেন আদালতের মাধ্যমে। তারেকের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে বাস মালিক, চালক ও বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্যাথরিন প্রায় দশ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেন। এতে নানা খাতে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। যেমন আয়ের ক্ষতি বাবদ- ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা,  ক্যাথরিন ও পুত্র নিষাদের নির্ভরশীলতার ক্ষতি বাবদ- ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, তারেকের মায়ের নির্ভরশীলতার ক্ষতি বাবদ- ১০ লাখ টাকা, ভবিষ্যত অগ্রগতির ক্ষতি বাবদ- ১০ লাখ টাকা, সম্পত্তির ক্ষতি বাবদ- ১০ লাখ টাকা, ভালোবাসা ও স্নেহের ক্ষতি বাবদ- ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ক্যাথরিনের চোখের চিকিৎসা বাবদ- ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা, দাফন খরচ বাবদ- ১ লাখ টাকা, মাইক্রোবাসের ক্ষতি বাবদ- ৫ লাখ টাকা মিলিয়ে সর্বমোট ৯ কোটি ৯৪ লাখ ৩০ হাজার ৯৮ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।

দীর্ঘ পাঁচ বছর আইনি লড়াই শেষে বাস মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্ট বিমা কোম্পানিকে চার কোটি একষট্টি লাখ পচাত্তর হাজার চারশ’ বায়ান্ন টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের দ্বৈত বেঞ্চ।

এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা দিতে হবে বাস চালককে, ৮০ হাজার রিলায়েন্সে ইন্সুরেন্স কোম্পানিকে; যার মধ্যে ২০ হাজার টাকা জীবন ও ৫০ হাজার টাকা সম্পদের ক্ষতিপূরণ । বাকি চার কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫২ টাকা সমানভাবে দিতে হবে চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের তিন মালিককে।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট কাগজের ফুল নামের চলচ্চিত্রের কাজে মানিকগঞ্জে যান মাটির ময়না খ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ। ফেরার পথে ঘিওরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। ওই ঘটনায় নিহত হন সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ মোট ৫ জন।


ইব্রাহিম খলিল: সাংবাদিক

যমুনা অনলাইন: আইকে/টিএফ









Leave a reply