সওজ প্রকৌশলীর উপর হামলা, ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

|

স্টাফ রিপোর্টার:

সড়ক ও পরিবহন বিভাগের এক উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর উপর হামলার ঘটনায় নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ৩ নম্বর সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কাজী সাখাওয়াত হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। শুক্রবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।

কাজী সাখাওয়াত হোসেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বারহাট্টা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি টানা দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সওজ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মে সকাল থেকে নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ সড়কের বারহাট্টা বড়ি এলাকা থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়। দি রিলাইবল বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই পায়। কাজের দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা জেলা সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাকিরুল ইসলাম ওই দিন বেলা ১১টার দিকে বড়ি এলাকায় কাজ দেখতে যান। এর কিছুক্ষণ পর বারহাট্টা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী সাখাওয়াত হোসেন ওই স্থানে আসেন। এ সময় তিনি কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। একই সঙ্গে তিনি সওজের বিভাগীয় প্রকৌশলীকে কাজ বন্ধ রেখে ভালো পাথরসহ বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ করে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে কাজ করার কথা বলেন। সাকিরুল ইসলাম সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.দিদারুল আলম তরফদারকে জানান। ওই কর্মকর্তা তখন সংস্কার কাজে ব্যবহৃত পাথরসহ বিভিন্ন উপাদানের ছবি মুঠোফোনে সংগ্রহ করে তার নিকট পাঠাতে বলেন। সাকিরুল ইসলামের অভিযোগ, মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় চেয়ারম্যান কাজী সাখাওয়াত তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষা প্রয়োগ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন সাকিরুলের ওপর হামলা চালিয়ে মারধোর করেন। এ ঘটনায় সাকিরুল ইসলাম বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় ওই দিন রাতে সরকারি কাজে বাধা, মারধোর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে চেয়ারম্যান কাজী সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার পর থেকে চেয়ারম্যান কয়েকদিন পলাতক থেকে উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের অগ্রিম জামিন আনেন। গত ১৬ জুন তিনি নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আদালতের বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করেন। বর্তমানে অবশ্য তিনি আবারো জামিনে রয়েছেন।

এই ঘটনায় চেয়ারম্যান কাজী সাখাওয়াত হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগের ইপ-১ অধিশাখার উপসচিব মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয় ‘যেহেতু চেয়ারম্যান কাজী শাখাওয়াত হোসেন নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাকিরুল ইসলামকে গালাগালি, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান করেন। জনস্বার্থে তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক কাজ সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে। তার এই অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিষদসহ জনস্বার্থে পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ)আইন ২০০৯ অনুযায়ী উল্লেখিত চেয়ারম্যানকে তার স্বীয় পদ হতে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম ও বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন বরখাস্ত হওয়ার আদেশ কপিটি তারা পেয়েছেন। এখন থেকে পরিষদের দায়িত্ব পালন করছেন প্যানেল চেয়ারম্যান আহ্লাদ মিয়া।

সূত্র জানায়, এর আগে গত ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বারহাট্টা উপজেলার তখনকার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও তাকে বহনকারী সরকারি গাড়িটি পেট্রল-বোমা মেরে পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজন। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনকে আসামি করে ইউএনওর গাড়িচালক মো. আবদুল খালেক বাদী হয়ে ওই রাতেই থানায় মামলা করেন। অবশ্য ওই ঘটনায় চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছিল।

এর আগেও ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট এলজিএসপি-২ প্রকল্পের ১৩ লাখ ১২ হাজার ২৬১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল।









Leave a reply