২ মাস পর ওমানে খুন হওয়া সোহেলের লাশ উত্তোলন

|

২ মাস ৭ দিন পর সোহেলের লাশ উত্তলোন, ইনসেটে সোহেল ও ডানে অভিযুক্ত চাচা

চাঁদপুর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরেরর ওমান প্রবাসী সোহেল হাজীর লাশ মৃত্যুর ২ মাস ৭ দিন পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে পুনরায় উত্তোলন করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টায় কবর থেকে এ লাশ উত্তোলন করা হয়।

এরআগে ওমানে সোহেলের চাচা মো. বাচ্চু হাজী ও তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে সোহেলকে খুনের অভিযোগ আনে সোহেলের মা পিয়ারা বেগম।

পিয়ারা বেগমের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে দাফনের ২ মাস ৭ দিন পর সোহেলের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করেন ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায় সোহেল হাজী লাশ দেশে আসার পর কোনপ্রকার গোসল ও জানাজা বাদেই তাকে দাফন করা হয়। এরপরই সোহেলকে হত্যার অভিযোগ এনে পিয়ারা বেগম গত ২৭ জুন দেবর মোঃ বাচ্চু হাজী ও দেবরের স্ত্রীর বড় ভাইকে আসামি করে ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে ২ মাস ৭ দিন পর ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ভূমি মমতা আফরিনের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করার জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, পেয়ারা বেগমের ছেলে সোহেল হাজীকে তারই দেবর বাচ্চু হাজী প্রবাসে চাকুরীর জন্য নিয়ে যায়। তারা ওমানে একই কোম্পানীতে একই মালিকের অধীনে চাকুরি করত। ৩০ হাজার টাকা বেতনের মধ্যে তাকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হতো। তাছাড়া বাড়ির জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে সোহেলের সাথে ওমানে চাচা বাচ্চু হাজী ও সম্পর্কিত মামা ফয়সাল বেপারীর সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তখন পিয়ারা বেগমকে জানানো হতো খুন করে সম্পত্তির সাধ মিটিয়ে দিবে।

পিয়ারা বেগম তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, ১ ও ২নং আসামি তাদের ফরিদগঞ্জের গ্রামের বাড়ির জায়গা সম্পত্তির বিষয় নিয়ে ছেলে সোহেলের সাথে ওমানে তর্ক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তখন তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সোহেলকে নাকে মুখে মাথার পিছনে ঘাড়ে ও হাতে, পায়ে আঘাত করে হাড় ভেঙ্গে ফেলে। মাথার পেছনে আঘাতের ফলে তার রক্তক্ষরণ হয়ে শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায়। হত্যার ব্যাপারে পিয়ারা বেগমকে তার দেবর বাচ্চু হাজী সোহেল হার্ট স্ট্রোকে মারা গেছে বলে জানায়।

পিয়ারা বেগম তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, খুনের এই বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে অন্য খাতে প্রবাহিত করার অসৎ উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এমনকি লাশ পোস্টমর্টেম না করে গোপনে স্থলপথে লাশ অ্যাম্বুলেন্স যোগে প্রথমে দুবাই ও পরবর্তীতে কাতার নিয়ে আসে। কাতার থেকে বিমানযোগে লাশ দেশে নিয়ে আসে। গ্রামের বাড়িতে লাশ আনার পর লোকজন সোহেলের লাশ শেষবারের মতো দেখতে চাইলে সে বাধা প্রদান করে। পরবর্তীতে চাপের মুখে কফিন খুলে বাদীনি ও স্বাক্ষীদেরকে সোহেলের মুখের অংশ দেখিয়ে লাশ দাফন করে ফেলে। এসময় রক্ত মাখা কাপড় চোপড় ও ওমানে পোস্টমর্টেম না করার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে অসংলগ্ন কথা বার্তা বলে। তার এ ধরনের কথাবার্তা ও অস্বাভাবিক আচরণের কারণে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে সোহেলকে ওমানে হত্যাকরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার মা।









Leave a reply