প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন রুবানা হক

|

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের মরদেহে শ্রদ্ধা জানাতে তার বনানীর বাসভবনে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন। প্রধানমন্ত্রী আনিসুল হকের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে আনিসুল হকের বাসায় পৌঁছান। তিনি যাওয়ার পর সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুত্র-কন্যাসহ মরহুমের পরিবারের সদস্যরা এসময় কাঁদছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে বসে কথা বলেন তিনি।

স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

আনিসুল হকের মরদেহ জাতীয় পতাকা ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পতাকা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। বাসা থেকে বিকাল তিনটার পরপরই আর্মি স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয় আনিসুল হককে।

এর আগে দুপুর ১টার কিছু পরে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেসে করে মরদেহ বনানীর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় এসে পৌঁছায় আনিসুল হকের মরদেহ।

আজ বাদ আছর আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে আনিসুল হককে তার মায়ের কবরের পাশে এবং ছোট ছেলের কবরে দাফন করা হবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে (লন্ডনের স্থানীয় সময় ৪টা ২৩ মিনিট) লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন আনিসুল হক। চিকিৎসকরা তার কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসযন্ত্র (ভেন্টিলেশন যন্ত্র) খুলে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।এ সময় তার স্ত্রী রুবানা হক, ছেলে নাভিদুল হকসহ আত্মীয়-স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। এদিকে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, কাল আর্মি স্টেডিয়ামে আরেক দফা জানাজা শেষে আনিসুল হককে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। সেখানে ছোট ছেলে শারাফুল হকের কবরেই শায়িত হবেন আনিসুল। ২০০২ সালে ৬ বছর বয়সে মারা যান আনিসুল হক ছোট ছেলে শারাফুল হক

লন্ডন সফরে গিয়ে গত ৪ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়েন আনিসুল হক। ভর্তি হন স্থানীয় ওয়েলিংটন হাসপাতালে। মস্তিস্কের রক্তনালীতে প্রদাহজনিত ‘সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস-এ’ আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। আনিসুল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শোক জানিয়েছেন।

মেয়রের মৃত্যুতে আজ থেকে ৩ দিনের শোক পালন করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। এছাড়া আরও জানানো হয়, আগামীকাল করপোরেশনের অফিস বন্ধ থাকবে।









Leave a reply