৩ দিন বসে থেকে কাঁচাকলা পেকে গেছে

|

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ

নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে শরীয়তপুর প্রান্তেই আটকা পড়েছে পাঁচ শতাধিক যানবাহন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে এ রুটে চলাচলকারী চালক ও যাত্রী সাধারণ। এদিকে এ সমস্যার ফলে অন্য রুট ব্যবহারে গাড়ি চালকদের পরামর্শ দিয়েছেন ঘাট কর্তৃপক্ষ।

ঘাটে আটকে থাকা ট্রাক চালক আলম বলেন, বাগেরহাট থেকে কাঁচাকলা নিয়ে এসেছিলাম যাবো চট্টগ্রাম। ঘাটে ৩দিন অপেক্ষা করে সব কলা এখন পেকে গেছে। আজকে যেতে না পারলে কলা পচে যাবে। মালিককে আমি কি জবাব দেবো?

বিআইডব্লিউটিসি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি নামতে শুরু করায় গত কয়েক দিন ধরে পদ্মা মেঘনা মোহনায় তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে, এতে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করছে। জোয়ারের সময় ঝুঁকি নিয়ে চারটি ফেরি চলাচল করতে পারলেও বাকি সময় ফেরিগুলোকে ঘাটেই বসে থাকতে হয়। এর ফলে শরীয়তপুরে প্রান্তে প্রায় আড়াইশ’ কাঁচামাল, শতাধিক পশুবাহী ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের দেড় শতাধিক যানবাহন আটক পড়েছে।

বর্তমানে এ রুটে ৬টি ফেরি চলাচল করছে। সাধারণত ফেরিগুলো প্রতিদিন দুইপাড় মিলে ৭০ বার যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে স্রোতের বিপরীতে ফেরি চলতে পারছে না। জোয়ারের সময় ঝুঁকি নিয়ে চারটি ফেরি উভয় ঘাট মিলে ৮ বার চলাচল করছে।

বেনাপোল সাতমাইল থেকে গরু নিয়ে আসা আলমগীর হোসেন বলেন, গরু নিয়ে রামগঞ্জ যাবো। দুই দিন ধরে ঘাটে বসে আছি। কখন ফেরি পাবো জানি না। রোদ বৃষ্টিতে গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছি। গরুগুলো কাহিল হয়ে যাচ্ছে।

নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আবদুল মোমিন বলেন, স্রোতের কারণে গত কয়েক দিন ধরেই ফেরি চলাচল বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা রাজস্ব পাওয়া যেতো। সেখানে বর্তমানে এক লাখ টাকার নিচে নেমে এসেছে। কবে নাগাদ এ অবস্থার অবসান ঘটবে বোঝা যাচ্ছে না।









Leave a reply