ক্রীড়াবান্ধব এরশাদ

|

দীর্ঘ নয় বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন তিনি। যার ফলে ক্রীড়াঙ্গন সব সময় মনে রাখবে প্রয়াত ক্রীড়াবান্ধব এই রাষ্ট্রপ্রধানকে- এমনটাই মনে করছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বর্ষীয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ ছিলেন এরশাদ। উনার সময়ে নতুন গতি পেয়েছিল ক্রীড়াঙ্গন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি এবং বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন এরশাদ। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) আধুনিকায়ন, বিভিন্ন স্টেডিয়াম তৈরি, সাউথ এশিয়ান গেমস ও বাংলাদেশ গেমস আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন তিনি।’
কামরুজ্জামান যোগ করেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থাতেই ক্রীড়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এসএম হলের হয়ে পোলভল্টে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। হাইজাম্পে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। উনার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কাজী আবদুল আলীম। আর এ কারণেই ক্রীড়ার প্রতি অন্যরকম এক ভালোবাসা ছিল এরশাদ সাহেবের।’

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত। এ সময় তৎকালীন ঢাকা স্টেডিয়াম (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম) চত্বরে থাকা বিভিন্ন ক্লাবগুলোকে সরিয়ে মতিঝিলে স্থায়ী জায়গার (বর্তমানে ক্লাবপাড়া) ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে তিনি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নামে মতিঝিলের জায়গাটি স্থায়ীভাবে বরাদ্দও দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতি হিসেবে ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৮ সালে প্রথম বাংলাদেশ গেমস আয়োজনের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর ১৯৮৫ সালে প্রথমবার সাফ গেমসের (বর্তমানে সাউথ এশিয়ান গেমস) আয়োজক হয় বাংলাদেশ। একই বছর বাংলাদেশ এশিয়া কাপ হকিরও আয়োজন করেছিল।

১৯৭৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এরশাদ। এ সময় রমনার জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্সটি আধুনিকভাবে তৈরি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তার সময়েই তৈরি হয়েছিল মিরপুর স্টেডিয়াম, মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম, এরশাদ আর্মি স্টেডিয়াম (বর্তমানে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম)।

ফুটবলের প্রতি অসীম ভালোবাসা ছিল সাবেক এই রাষ্ট্রপতির। তাই তো আশির দশকে ক্ষুদে ফুটবলারদের অংশগ্রহণে দেশে আয়োজিত হতো ‘এরশাদ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।









Leave a reply