বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড

|

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ফাইনালের সাক্ষী হলো ক্রিকেটের তীর্থভূমি লর্ডস। যেখানে নিউজিল্যান্ডকে সুপার ওভারে হারিয়ে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেলো ইংল্যান্ড। ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৪১ রান করে কিউইরা। জবাবে, ২৪১ রানেই ইংলিশরা অলআউট হলে সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ। যেখানে, ইংল্যান্ডের ১৫ রানের জবাবে নিউজিল্যান্ডও ১৫ রান করলেও সুপার ওভারে বাউন্ডারির হিসেবে এগিয়ে থাকায় চ্যাম্পিয়ন হলো ইংল্যান্ড।

২৭ বছর পর ফাইনালে উঠে ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটালো ইংল্যান্ড। তাও আবার সুপার ওভারে অবিশ্বাস্য-রোমাঞ্চকর এক ফাইনাল জিতে। এর আগের তিন ফাইনালে যা পারেননি ব্রিয়ারলি, গ্রাহাম গুচ, মাইক গ্যাটিং সেই অরাধ্য সাধন ওয়েন মরগানের হাতে। আপস নাটকীয়তার ম্যাচে শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিলো ১৫ রান। গাপটিলের থ্রোতে ৪ কিংবা বেন স্টোকেসর আগ্রাসন কোন কিছুই ফল আনতে পারেনি।

২৪১ এ স্কোর আটকালে ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার দেখা মিলে সুপার ওভারের। যেখানে ব্যাট করে আবারো সেই ১৫ রান ইংলিশদের। কিউইদের যখন প্রয়োজন ১৬ তখন বল হাতে আর্চার। তবে ক্রিকেট বিধাতা যেন সব রোমাঞ্চই জমা রেখেছিলেন এই ম্যাচে। টাই সুপার ওভার। সবচে বেশি চার মারার যোগফলে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।

এর আগে যদিও ২৪২ রানের সমীকরণ কঠিন হয়ে পরে জেসন রয় ১৭ রানে ফিরলে। পারেননি ইনফর্ম জো রুটও। বেয়ারস্টেকেও ৩৬ রানে আটকে দেন ফার্গুসন। এরপর অধিনায়ক মরগানও ফিরলে ৮৬ রানে ৪ উইকেটের দল ইংল্যান্ড। ঘরের মাঠে আরো একবার স্বপ্নভঙ্গের চোখ রাঙানি তখন ইংলিশদের সামনে। সেখান থেকেই পঞ্চম উইকেট ফিনিক্স পাখির মত আবির্ভাব বেন স্টোকস ও জস বাটলারের। ১১০ রান যোগ করে শ্বাস ফেরান ইংলিশদের। কিন্তু তখনই কিউইদের লাক ফেরান লকি ফার্গুসন। সুপার সাব সাউদির অসাধরণ ক্যাচে ৫৯ এ থামান বাটলারকে। যে নাটকীয়তা শেষ পর্যন্ত গড়ায় সুপার ওভারে।

এর আগে লর্ডসে লাকি টস জিতেও কিউইদের বাজে শুরু ধরে রাখেন মার্টিন গাপটিল। ১৯ রান করে ক্রিস ওকসের বলে লেগ বিফোরে কাটা পরেন তিনি। এরপর কেন উইলিয়ামসের উইকেট ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। হেনরি নিকোলসকে নিয়ে ৭৪ রানের জুটি, ৯৮ বলে। পুরো আসরে একা দলকে টানা উইলিয়ামসকে থামতে হয় ৩০ রানে। তবে চলতি আসরে প্রথম ফিফটি তুলে নিকোলসও ফেরেন ৫৫ রান করে প্লাঙ্কেটের বলে। আপস এরপর রস টেইলর ফিরলে ৪ উইকেটে ১৪১ ব্লাকক্যাপদের। নিশাম-ল্যাথামে আবারও মাথা তুলে দাড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলো কিউইরা। তবে এক লাথাম ছাড়া চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনননি কেউই। লাথামের ৪৭ রানে স্কোর থামে ২৪১ এ। সেই সুপার ২৪১ এ অবশ্য স্বপ্নভঙ্গের বেদনার নামই হয়ে থাকলো কিউইদের। ক্রিকেটকে জয়ী করে হার মানলো নিউজিল্যান্ড।









Leave a reply