সামরিক শাসক হলেও রাজনীতিতে টিকে ছিলেন সদর্পে

|

ক্ষমতা হারালেও সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিটকে যাননি রাজনীতির মাঠ থেকে। বরং দূরদৃষ্টির জন্য সময়ের সাথে সাথে নিজেকে এবং দলকে রাজনীতিতে অপরিহার্য করে তুলেছেন। জয়-পরাজয়ের বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বড় দু’দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো জাতীয় পার্টি। মানুষের মনেও ছিলো তার অবস্থান।

বলা হয়ে থাকে, এরশাদই একমাত্র সামরিক শাসক যিনি ক্ষমতা হারানোর পরও রাজনীতিতে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠেন, নিজেকে টিকিয়ে রাখেন সদর্পে।

১৯৯০ সালে ক্ষমতা হারানোর পর ৬ বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। বন্দি থেকেই ৫ আসনে বিজয়ী হয়ে চমকে দেন সবাইকে। দলও পায় সম্মানজনক আসন। এরপর ভাঙাগড়ার মাঝে ২০০১ সালে, অষ্টম সংসদে এরশাদের জাতীয় পার্টি পায় ১৪ আসন। মূলত, এরপর দু’দলের কাছেই কদর বাড়ে জাপার।

নবম সংসদ নির্বাচনের আগে, ২০০৬ সালে বিএনপি-আওয়ামী লীগ উভয় জোটই জাতীয় পার্টিকে নেয়ার চেষ্টা করে। নানা ঘটনার পর ১৪ দলীয় জোটের শরিক হয়ে মহাজোটে যায় জাপা। তারা পায় ২৭ আসন।

একজন সামরিক শাসক কিভাবে ধীরে ধীরে রাজনীতির মাঠে এতো বড় ফ্যাক্টর হলেন, সেটা এক বড় প্রশ্ন। ভোট এলেই তার দলকে কাছে পাওয়ার চেষ্টা চলেছে প্রায় প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে। বড় দু’দলের বিশাল দূরত্বের কারণে বারবারই সুযোগ তৈরি হয়েছে জাপা’র।

নবম ও দশম সংসদে বিরোধী দলের পাশাপাশি ক্ষমতারও অংশীদার হয় দলটি। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টিকে স্থান দেয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করা হয় এইচ এম এরশাদকে। মধ্য প্রাচ্যের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে।

একাদশ সংসদেও মহাজোটের হয়েই নির্বাচন করে জাপা। ২২ আসন পেয়ে আবারো বিরোধী দলে তারা। এবার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা।

দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এরশাদ রাজনীতিতে নিজেকে অপরিহার্য করে তুলে ছিলেন। ব্যক্তি জনপ্রিয়তায় রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।









Leave a reply