পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত খাগড়াছড়ি সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

|

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

পাহাড়ি ঢলে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত ও পাহাড় ধসের কারণে প্রাণহানির আশঙ্কা এড়াতে সাময়িককভাবে সাজেকে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছে কটেজ মালিক সমিতি অব সাজেক ও জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম ও কটেজ মালিক সমিতি অব সাজেক- এর সভাপতি সুবর্ণ দেব বর্মা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বার্থ এবং সর্বসাধারণের জানমাল সুরক্ষার স্বার্থে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের কথা বলা হয়েছে। ।

এদিকে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বেশ কয়েকটি নিম্মানঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে জেলা সদরের ১০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নেয় প্রায় সাত শতাধিক পরিবার। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের শুকনা খাবারের পাশাপাশি খিচুড়ি দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে দেওয়া হয়েছে পানি বিশুদ্ধকরণের ট্যাবলেট ও জার।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চেঙ্গীর পানি কমতে থাকায় খালি হতে থাকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে মাইনী নদীর পানি। পানিবন্দি হয়ে আছে এখনও দুই শতাধিক পরিবার। তলিয়ে আছে দীঘিনালা উপজেলার মেরুং বাজার এবং কবাখালী-মেরুং-রাঙ্গামাটির লংগদু সড়ক। বন্ধ আছে সড়ক যোগাযোগ।

এদিকে, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন সড়কে পাহাড় ধসে পড়েছে। বন্ধ হয়ে পড়েছে যান চলাচল। ফাটল দেখা দিয়েছে সড়কে। মাটি সরে গেছে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ থেকে। পানছড়ি উপজেলার দুধুকছড়ায় এলজিইডি’র বাস্তবায়নাধীন ব্রীজ দেবে গেছে। চেঙ্গী-লোগাং এলাকার কাঁচা রাস্তাঘাট ভেঙ্গে গেছে। একাংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় ঝুঁকিতে আছে চেঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনও। জেলা সদরের মধুপুর বাজারে সড়ক দেবে গিয়ে আটটি দোকান ভেঙ্গে গেছে।

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া সড়কগুলোর ক্ষতি নির্ধারণ পরিমাপ করা যায়নি। তবে যান চলাচল যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য চারটি মোবাইল টিম রাখা হয়েছে। তারা বৃষ্টিতে সড়ক সচল রাখতে কাজ করেছে।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মো. ফয়সাল জানান, প্রাথমিকভাবে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার ক্ষতি পরিমাপ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধ পেলে ঝুঁকি এড়াতে খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ সড়কগুলোর কাজ করা হবে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে জানা যায়, দূর্যোগ মোকাবেলায় সতর্কতার পাশাপাশি সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে পানিবন্দি হয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠা মানুষগুলোর মধ্যে খাবার বিতরণের পাশাপাশি ৫০ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তালিকা করে অধিক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহায়তা করা হবে। কাজ শুরু করা হয়েছে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে থাকা পরিবারদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার।









Leave a reply