গ্যাসের দাম নিয়ে তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির বিবৃতি

|

তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, দেশের উন্নয়ন নয়, কতিপয় গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদী লাভের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে জাতীয় কমিটির নেতারা এসব কথা বলেন। তারা আরো বলেন, উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, যখন দেশের বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষেরা গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি কেন দেশের জন্য ক্ষতিকর, কেন অযৌক্তিক এবং কেন উন্নয়ন বিরোধী তার বিস্তারিত যুক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরছেন তখন সেসব যুক্তি ও দাবির প্রতি কোনো গুরুত্ব না দিয়ে গত বৃহস্পতিবারও জাতীয় সংসদে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে যৌক্তিক ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বলে বলা হয়েছে।

তারা বলেন, দেশে এলপিজি বা সিলিন্ডার ব্যবসার প্রসার ঘটছে। এই ব্যবসার সাথে জড়িত আছে প্রভাবশালী ঋণখেলাপিরা। গ্যাসের দাম বাড়ালে এলএনজি আমদানিকারকসহ তাদেরও ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এছাড়া গ্যাসের অবিরাম দামবৃদ্ধির আর কোনো যুক্তি নেই।

সরকার দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দামবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে দাবি করে। সরকার যে নীতি দ্বারা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত পরিচালনা করছে তাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির পর্ব সহজে শেষ হবে না, বারবার বাড়াতেই হবে।

শুধু তাই নয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে ঋণ নির্ভর প্রাণপ্রকৃতি বিনাশী বিপজ্জনক সব প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করেও উদ্বৃত্ত উৎপাদনের অনেক ভালো পথ অবশ্যই আছে।
নেতৃবৃন্দ সরকারকে ব্যয়বহুল, ঝুঁকিপূর্ণ, বন-পানি-মানুষ-পরিবেশবিধ্বংসী এবং ঋণনির্ভর পথ থেকে সরে আসার দাবি জানান। কেননা এতে কিছু দেশি বিদেশি গোষ্ঠীর লাভ হলেও দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে ভয়াবহ অনিশ্চয়তা, বিপদ ও বিপন্নতার দিকে।

এর পাশাপাশি তারা আরো বলেন, এই সরকারের কয়েক পর্বে গত ১০ বছরে গ্যাসের দাম বেড়েছে সাতবার। সেইসাথে বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। গ্যাসের অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালে শুধু যে গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর চাপ বাড়ে তাই নয়, পরিবহন-শিল্পপণ্য-বিদ্যুৎ-বাসাভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে সকল পর্যায়ের মানুষের উপর চাপ পড়ে। উৎপাদনশীল খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে। সমগ্র অর্থনীতিই এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উল্লেখযোগ্য যে, বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম যখন কমেছে ৫০ শতাংশ, তখনই বাংলাদেশে বাড়ানো হল প্রায় ৩৩ শতাংশ।

প্রকৃতপক্ষে গত দশ বছরে দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানি নির্ভরতার কারণে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির বদলে দেশের সক্ষমতার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এমনকি স্থলভাগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স বহু বছর ধরে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সাফল্য দেখালেও গত কয়েকবছরে গ্যাসকূপ খননের কাজ করানো হচ্ছে রাশিয়ার গাজপ্রম, আজারবাইজানের সোকারের মতো বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে।

যেখানে বাপেক্সের প্রতিটি কূপ খননে লাগে ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা, সেখানে বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে নিচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী সারা দেশের স্থলভাগে কূপ যদি গাজপ্রম ও অন্যান্য বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে করা হয়, তাহলে দেশের আর্থিক ক্ষতি হবে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। কেন আমরা এই নীতি মানবো?









Leave a reply