বাধ কেটে খাল খনন?

|

জাকারিয়া হৃদয়, পটুয়াখালী
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পটুয়াখালীর দুমকিতে বেড়িবাধের উপর নির্মাণ করা হচ্ছে এলজিইডির পাকা রাস্তা। এটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর বিরুদ্ধে। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, প্রকল্পের কাজের মান সম্পর্কে কিছুই জানে না তারা।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ার ক্যামেরার সামনে কথা না বলে ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধের সন্তোষদি তুলাতলা থেকে চরগরবদি ফেরিঘাট পর্যন্ত দুই হাজার দুইশত মিটার বাধের উপর এলজিইডি কর্তৃক পাকা রাস্তা নির্মাণের সমঝোতা স্মারক হয় আড়াই বছর আগে। গত পনের থেকে বিশ দিন আগে এ কাজ শুরু করে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। কাগজে কলমে রাস্তা নির্মাণে বেড়িবাধের টপ থেকে দেড়ফিট খনন করার নিয়ম থাকলেও সরেজমিনে দেখা যায় চার থেকে সাড়ে চারফিট খনন করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আগে খাল কেটে রাস্তা নির্মাণ করা হতো আর এখন রাস্তা কেটে খাল তৈরি করা হচ্ছে। এ যেন রাস্তা কেটে খাল খননের নতুন কর্মসূচী পালন করছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

রাস্তাটি টেকসই ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রটেক্ট করার জন্য ১৪লাখ টাকার মাটি ভরাটের কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বালু দিয়ে রাস্তা ভরাটের পায়তারা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাটির তুলনায় বালুর দাম কম হওয়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্টান এই অনিয়মের আশ্রয় নিতে চাচ্ছেন। তাতে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা দিয়ে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হবার আশংকা রয়েছে।

বিষয়টি চোখে পড়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ জাফর উল্লাহ এর। নিয়ম অনুযায়ী রাস্তার কাজ করার দাবি করেন তিনি।

এবিষয়ে দুমকী উপজেলা প্রকৌশলী দিপুল কুমার বিশ্বাস এর কাছে প্রথমে কাজের দরপত্র দেখতে চাইলে তার কাছে নাই বলে জানান। এমনকি কত টাকার কাজ সেটাও মনে নাই বলে জানান। পরে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে নিউজ না করার অনুরোধ জানান তিনি। তবে ক্যামেরার সামনে কোন কথা না বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মোঃ সেলিম মিয়া ওরফে মুদ্রার সেলিমের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের মালিক সেলিম মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

আর পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয় বেড়িবাধের মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহি প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, কোনভাবেই অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাস্তা নির্মাণ কাজ না করতে দেয়ার আশ্বাস দেন।
প্রায় আড়াই কিলোমিটারের এই রাস্তা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকা। বর্ষার আগে নিয়ম অনুযায়ী রাস্তাটি যাতে নির্মাণ করা হয় সেই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply