সোশ্যাল মিডিয়ার নেশা থেকে বেরিয়ে আসার ১০ উপায়

|

সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন কিনা কীভাবে বুঝবেন? প্রথমেই নিজেকে মূল্যায়ন করুন, খেতে বসে বা অতি জরুরি কাজের মধ্যে নিয়মিত আপনি নিজেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আপডেটগুলোতে মনোযোগ দিচ্ছেন কি না? সোশ্যাল মিডিয়ার গেমসগুলোতে কেমন সময় দিচ্ছেন? যা কিছুই করছেন, সেগুলোতে নিজেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পোস্ট করতে নিজের মধ্যে চাপা তাগিদ অনুভব করছেন কিনা? অন্যদের সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টগুলোতে নিজেকে উদ্বিগ্ন করে তুলছেন কি না? একবার নীরবে ভাবুন নিজের এসব প্রবণতা নিয়ে। যদি আপনি নিজের কাছে ইতিবাচক উত্তর পান তাহলে জেনে রাখুন আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এখন নিজেকে এই সংকট থেকে কীভাবে উত্তরণ ঘটাবেন? জেনেনিন কিছু কার্যকর উপায়। লিখেছেন তরিক রহমান

সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করুন : প্রথমেই নিজের এসব প্রবণতার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করুন। তারপর এ বিষয়গুলো থেকে নিজেকে মুক্ত করার বিষয়ে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করুন। এটাই হচ্ছে সমস্যা থেকে পরিত্রাণের প্রথম ধাপ।

নিজেকে বিকল্প কাজে যুক্ত করুন : একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিজের সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগের বিষয়ে যুক্ত না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। এরপরে, এ সময়টাকে কী কাজে লাগাবেন সে বিষয়ে মনোযোগ দিন। নতুন কিছু শিখতে শুরু করুন, নতুন কাজে যুক্ত করুন এবং কিছু না থাকলে নতুন কিছু বিষয়ে জানার জন্য তৎপর হোন। হতে পারে আপনি নতুন কোনো ভাষা শিখছেন বা অনলাইনে নতুন কোনো কোর্সে অংশ নিচ্ছেন। মনে রাখবেন, এতদিনে আপনার মধ্যে আলস্য বাসা বেঁধেছে। এর থেকে মুক্ত হতে নতুন কিছু করাই উৎকৃষ্ট সমাধান।

চলতি হাওয়ায় যুক্ত হওয়ার মানসিকতা পাল্টে নিন : মনে রাখবেন নতুন সবকিছুই কিন্তু ভালো নয়। হয়তো নতুন কোনো মাধ্যম বা নতুন কোনো চলতি এপসে নিজেকে আর যুক্ত করবেন না। ফলে নতুন একাউন্ট করার বিষয়ে সচেতন হোন। আপনাকে ব্যস্ত রাখতে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন বাণিজ্যিক আইডিয়া নিয়ে উদ্যোগ। এসব উদ্যোগ আপনাকে বেঁধে ফেলছে নেশায়!

নতুন কিছু পোস্ট করার আগে ভাবুন : সবকিছুকেই সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত না করার বিষয়ে সচেতন হোন। মনে রাখবেন, আপনি একটা কলা খাচ্ছেন, তো কলার ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করাটা খুবই জরুরি নয়। নিজের মানসিক বিচ্ছিন্নতাকে চেক করুন।

ব্যক্তি সম্পর্কগুলোতে সমনোযোগ দিন : বাস্তব জীবনে যে সম্পর্কগুলো আছে সেগুলোতে মনোযোগ দিন। আত্মীয় পরিজনকে সময় দিন, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নমূলক বিষয়ে মনোযোগ দিন ও পরিবারের নিকটবর্তী থাকুন।

ঘনঘন লাইভ প্রচার থেকে বিরত থাকুন : যেখানেই যাচ্ছেন, সেখান থেকে একটি লাইভ প্রচার করা থেকে বিরত থাকুন। সবকিছুতে নিজেকে বাস্তব থেকে ভার্চুয়ালে নেয়া থেকে বিরত থাকুন। অন্যদের পর্যবেক্ষণ করুন। পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে মনোযোগ দিন।

বিরতি নিন : মনে রাখবেন, যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছিল না, তখনও কিন্তু মানুষের সামাজিক সুন্দর জীবন ছিল। ফলে ১/২ সপ্তাহ ব্রেক নিন, অন্যকিছুতে নিজেকে যুক্ত করুন। এবং মানুষের সুস্থ-সুন্দর জীবন যাপন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নির্ভর নয়।

নিজেকে প্রকাশ করুন পৃথক পদ্ধতিতে : ব্লগ লিখতে শুরু করুন বা এমন কিছু করুন যাতে আপনার প্রকৃত মেধা বা দক্ষতা প্রকাশ করা যায়।

লাইক শেয়ার কাউন্ট করা থেকে বিরত থাকুন : লক্ষ করুন কোনো কোনো বিষয়ে আপনি নিজেকে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত করেছেন। তার অধিকাংশই বন্ধ করে দিন। নিজেকে লাইক শেয়ার কমেন্ট কাউন্ট করা থেকে বিরত রাখুন। এবং বিশেষভাবে গেমসগুলো থেকে নিজেকে আনসাবসক্রাইব করুন।

উপরের বিষয়গুলো যদি আপনি মেনে চলতে পারেন তাহলে সহজেই আপনি আপনার দক্ষতা ও কার্যক্ষমতাকে সামাজিক মাধ্যমের নেশা থেকে বাঁচাতে পারবেন। মনে রাখবেন, হেরোইনের নেশার সঙ্গেও তুলনা করা হচ্ছে ডিজিটাল সংস্কৃতির এই নতুন নেশাকে। সুস্থ থাকুন, সুন্দর ও কর্মক্ষম রাখুন নিজেকে।









Leave a reply