জুরাইনে পানির জন্য হাহাকার

|

জুরাইনের খন্দকার রোড ও মুন্সিবাড়িতে পানির জন্য হাহাকার চলছে। বৃহস্পতিবার থেকে পানি না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে অন্তত কয়েক হাজার পরিবার।

এলাকাবাসী বলেন, বৃহস্পতিবার হঠাৎ পানি আসা বন্ধ হয়ে যায়। তাই খাওয়া কিংবা রান্না করার পানি কিনতে হচ্ছে।

রোববার থেকে লাইনে পানি এলেও তা প্রচণ্ড নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত। যা পান কিংবা ধোয়া-মোছার কাজে ব্যবহার অযোগ্য। কোথাও কোথাও টিউবওয়েলে বিশুদ্ধ পানি মিললেও তা সংগ্রহ করতে পোহাতে হচ্ছে বহু ঝক্কিঝামেলা।

একটু সচ্ছল পরিবারগুলো পানি কিনে ব্যবহার করলেও বেশির ভাগ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক সময় অপেক্ষা করে শুধু খাওয়া ও রান্নার পানি সংগ্রহ করতে পারছেন। সংগৃহীত পানিও পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিন দেখা যায়, বিশুদ্ধ পানি না থাকায় খন্দকার রোড ও মুন্সিবাড়ির বিভিন্ন পয়েন্টে টিউবওয়েলের পানির জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন সাধারণ মানুষ। এমনি একটি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নাসিমা বেগম।

তিনি বলেন, গেল কয়েক দিন কলে একফোঁটা পানিও আসে না। রোববার থেকে যাও পানি আসা শুরু করেছে, তা পানি না বলে অন্য কিছু বলা ভালো। এত নোংরা ও দুর্গন্ধ পানি আমার জন্মেও দেখি নাই। খাওয়া ও অন্যান্য কাজের জন্য পানি নিতে সিরিয়ালে দাঁড়িয়েছি। তার পাশেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন গৃহিণী হালিমা আক্তার।

তিনি বলেন, আমার বাসা মুন্সিবাড়ি। খন্দকার রোডে এসেছি এই ভেবে, হয়তো ভিড় কম হবে। কিন্তু এখানেও অনেক ভিড়। অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গে হালিমা আক্তার বলেন, আজ চার-পাঁচ দিন গোসল করতে পারিনি। খাওয়ার পানিই জোটে না, গোসল করব কীভাবে।

জুরাইন অঞ্চলে পানির সমস্যা নতুন নয়। পানি আসে তো আসে না। সকালে পাওয়া গেলে বিকালে পানি থাকে না। যেটুকু আসে তাও প্রচণ্ড নোংরা ও লালচে থাকে।

কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে আচমকা পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিলে রীতিমতো ভোগান্তির চূড়ান্তরূপ দেখছে জুরাইনের খন্দকার রোড ও মুন্সিবাড়ির হাজার হাজার মানুষের।

খন্দকার রোডের বাসিন্দা মাহবুব আলম বলেন, কয়েক দিন ধরেই তীব্র পানি সংকটে ভুগছি। সবার পক্ষে তো কিনে পানি খাওয়া সম্ভব নয়। তা ছাড়া গোসল-ধোয়া-মোছা ছাড়া কীভাবে চলা যায়।

এত টাকার পানি কেনা কি সম্ভব। মাহবুব আলম আরও বলেন, আমরা বড়রা না হয় দম-মুখ খিঁচে চলতে পারি, কিন্তু যাদের ঘরে শিশু আছে তারা কীভাবে চলছে?

আরেক বাসিন্দা মিজান বলেন, পানির অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছি। তিন-চারদিন ধরে নাওয়া নেই। খাওয়া চলছে কোনোরকম। এ এলাকায় পানির সমস্যা লেগেই আছে।

আমাদের এ অভিশপ্ত জীবনের কষ্ট লাঘবে ওয়াসার আন্তরিকতার ঘাটতি আছে বলেই মনে হয়। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ চাইলে আরও আগেই এ অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্ত হতে পারতাম। পানির কষ্ট সবচেয়ে বড় কষ্ট- ওয়াসার লোকজন কবে বুঝবে এ কথা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী হাবিবুর রহমান হাবু বলেন, পানির সমস্যা সমাধানে দৌড়াচ্ছি। কিন্তু কোনো কূলকিনারা করতে পারছি না।

ওয়াসা অফিস থেকে বলছে, খোদ মোটরেই পানির সংকট। বর্ষার মৌসুমে পানির লাইনে কিছুটা সমস্যা হয়ে থাকে। দেখি কী করা যায়।

ওয়াসা মডস-৭ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবিদ হোসেন পানি সংকটের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, শুক্র ও শনিবার ওই অঞ্চলের পানির লাইনে কাজ করা হয়েছে। এজন্য লাইনে পানি পাওয়া যায়নি। ফলে পুরো এলাকাতেই পানি সংকট দেখা যায়।

রোববার দুপুর থেকে লাইনের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। এখন ওই এলাকায় মানুষ স্বাভাবিক পানি সরবরাহ পাচ্ছে।









Leave a reply