পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই ঢাকা-রাজশাহী রুটের আন্তঃনগর ট্রেনে

|

পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে। ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা অহরহ ঘটছে। ছাদে পাওয়া যাচ্ছে লাশ। ট্রেনে ভেতরে নারী যাত্রীরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। কামরাগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অ্যাটেনডেন্ট থাকে না। থাকে না রেলওয়ে নিরাপত্তা ও জিআরপির লোকজন। ফলে ট্রেনে ঘটছে নানা অঘটন। টিকিটবিহীন যাত্রী তোলার কারণেও টিকিটধারী যাত্রীরা নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এরই মধ্যে যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ করছেন।

২১ জুন রাতে রাজশাহীগামী সিল্কসিটি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টয়লেটে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে নির্মাণ শ্রমিক মোমিনুল। কিশোরীর চিৎকারে যাত্রীরাই তাকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্তকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। ট্রেনটির ওই কামরার যাত্রী মজিদুল হক বলেন, অনেকক্ষণ ধরেই যুবকটি কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করে যাচ্ছিল। কিন্তু ওই কামরাতে কোনো অ্যাটেনডেন্ট, নিরাপত্তা বাহিনী ও জিআরপির সদস্য ছিল না। ফলে কিশোরী আক্রান্ত হওয়ার আগে তাদের সাহায্য চেয়েও পায়নি।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, আন্তঃনগর ট্রেনগুালোতে বগিপ্রতি ১ জন করে অ্যাটেনডেন্ট, দু’জন করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও দু’জন জিআরপির সদস্য সার্বক্ষণিক ডিউটি করার কথা। কিন্তু এই রুটের ট্রেনগুলোতে এটা কখনোই থাকে না। ফলে মাঝে মাঝে অঘটন ঘটছে। রবিউল ইসলাম নামের একজন নিয়মিত যাত্রী জানান, সিল্কসিটি ও পদ্মা আন্তঃনগর ট্রেন দুটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে টাঙ্গাইলে দাঁড়ালেই ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসীরা ট্রেনে উঠে পড়ে। তারা যাত্রীদের জিনিসপত্র ছিনতাই করে মির্জাপুর স্টেশনে নেমে যায়। এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে টিকিটবিহীন অথবা ট্রেনের ছাদে যাত্রী বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও বিভিন্ন স্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রী তোলা হচ্ছে অহরহ। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের চোখের সামনে দিয়ে ট্রেনের ছাদেও লোক উঠে যাচ্ছে খোদ রাজশাহী স্টেশনে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও জিআরপির সদস্যরা এসব দেখার বদলে ট্রেনজুড়ে ছুটে বেড়ায় টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় ও মালামাল থেকে টাকা তোলার জন্য। এ কারণে ছাদ থেকে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

পশ্চিম রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৩ নভেম্বর ঢাকা থেকে রাজশাহী পৌঁছার পর সিল্কসিটি ট্রেনের ছাদ থেকে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ১০ জুন রাজশাহীর বর্ণালী এলাকায় ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে এক যুবক মারা যায়। এ নিয়ে গত এক বছরে রাজশাহী-ঢাকা রুটের সিল্কসিটি ও পদ্মা আন্তঃনগর ট্রেনের ছাদ থেকে ৬টি লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। জিআরপি রাজশাহী থানার ওসি সাঈদ ইকবাল জানিয়েছেন, এসব ব্যক্তি অবৈধভাবে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করছিলেন।

জানা যায়, রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে দিনে-রাতে মোট ৪টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে ধূমকেতু ও বনলতা ট্রেন দুটি দিনের বেলায় চলাচল করায় নিরাপত্তার সমস্যা কিছুটা কম থাকে। ট্রেন পদ্মা ও সিল্কসিটি রাতে চলাচল করায় ট্রেন দু’টিতে নিরাপত্তার সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। এ কারণে যাত্রী নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়াসহ অধিকাংশ অঘটন এ দুটি ট্রেনেই ঘটছে। এসব বিষয় কর্তৃপক্ষের জানা থাকলেও রাতের ট্রেনগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম) শাহ নেওয়াজ বলেন, লোকবল স্বল্পতার কারণেই সিল্কসিটি ও পদ্মা আন্তঃনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত অ্যাটেনডেন্ট দেয়া যাচ্ছে না। তবে ধূমকেতু ট্রেনের অ্যাটেনডেন্ট সার্ভিস বেসরকারি খাতে দেয়ায় সেটিতে বগিপ্রতি একজন করে অ্যাটেনডেন্ট দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক অ্যাটেনডেন্ট, নিরাপত্তা সদস্য ও জিআরপি দেয়ার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply