যৌতুকের জন্য শিকলে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন, আটক ৫

|

স্টাফ রিপোর্টার,নেত্রকোণা :
নেত্রকোণার কলমাকান্দায় যৌতুকের জন্য স্বামী,শ্বশুর -শাশুড়ি, ভাসুর ও জ্যা বিরুদ্ধে কলি বেগম (২৪) নামে এক গৃহবধূকে হাতে পায়ে শিকলে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতিত কলি কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

এ ঘটনাটি ঘটে কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়ন বেলতলী চরপাড়া গ্রামে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায় নির্যাতনের এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূকে হাত পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে রাখা হয়। কৌশলে কলি তার মা’র কাছে সিলেটে খবর পাঠায়।

এ ঘটনাটি জানতে পেরে পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বেলতলী চরপাড়া গ্রামে কলি বেগমের শ্বশুর বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূকে হাত পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

পরে শনিবার ভোরে অভিযুক্ত স্বামী মো. জাহাঙ্গীর আলম, শ্বশুর আব্দুল হামিদ, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম, ভাসুর আলমগীর হোসেন ও জ্যা রুমা আক্তারসহ পাঁচজন কে আটক করেছে পুলিশ ।

এ ঘটনায় নির্যাতিত নিজে বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা বিবরণ সুত্রে জানা যায়, নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের মো. আব্দুল হামিদের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে (২৮) সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানা তেলিপাড়ার মো. খায়রুল আলমের মেয়ে কলি বেগমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে প্রায় সাড়ে তিন বছর পূর্বে সিলেটে সংসার শুরু করে। বর্তমানে তাদের সংসারে জান্নাতুল ফেরদৌস মাহিয়া নামে ১৭ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য প্রায়ই স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। বৃহস্পতিবার ৫০ হাজার টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য দাবি করলে এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে স্বামীসহ অন্যরা হাত পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে রাখে। পরে কৌশলে কলি তার মাকে সিলেটে খবর পাঠায়। পরে পুলিশ এর সহযোগিতায় নির্যাতিত গৃহবধূকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ওসি মো. মাজহারুল করিম জানান, গৃহবধূ কলি বেগমের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী,শ্বশুর -শাশুড়ি, ভাসুর ও জ্যা সহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply