বাছিরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

|

ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ওই অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বে থাকা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা বুধবার বাছিরের বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ডিআইজি মিজান ও দুদক পরিচালক এনামুল বাছিরের মধ্যে ঘুষ লেনদেনের কথোপকথনের অডিওর ফরেনসিক পরীক্ষার ফল দুদকের কাছে উপস্থাপন করে এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার)। এতে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের টিম উপস্থিত ছিলেন।

এনটিএমসির পক্ষ থেকে মিজান-বাছিরের টেলিফোনে কথোপকথনের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঘুষ লেনদেনের ঘটনার অনুসন্ধান টিমের প্রধান দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বলেন, আমাদের চেয়ারম্যানসহ ১০ সদস্যের টিম এনটিএমসি দফতরে উপস্থাপিত ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করেছি। এতে আমরা সন্তুষ্ট। শিগগির এ প্রতিবেদনটি দুদকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবে এনটিএমসি। অনুসন্ধান টিম দুদকের পরিচালক (সাময়িক বরখাস্ত) খন্দকার এনামুল বাছিরের বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের কাছে আবেদন করেছে।

এদিকে নয়াপল্টনে হোটেল ভিক্টরিতে ডিআইজি মিজানের সঙ্গে গোপন মিটিংয়ে অংশ নেয়া দুদকের সাবেক পরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডিআইজি মিজান ও পরিচালক এনামুল বাছিরের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় গঠিত অনুসন্ধান টিম তাকে শিগগির নোটিশ করবে বলে জানা গেছে।

ওই গোপন মিটিংয়ে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ২৮(গ) ধারায় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্ল্যার নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের টিমকেই ওই অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য বহু নাটকীয়তার পর সোমবার ডিআইজি মিজানুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অপর তিন আসামি হলেন- মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না ওরফে রত্না রহমান, ভাই মাহবুবুর রহমান ও ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসান।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তিন কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং আইনের ৪(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলাটি দুদকের ঢাকা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে দায়ের করা হয়।









Leave a reply