ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া মাদারীপুরের ৮ জন দেশে ফিরেছে

|

স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর:

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে নিখোঁজ থাকা ৬৪ বাংলাদেশীর মধ্যে শুক্রবার দেশে এসেছে ১৭ জন। যার মধ্যে মাদারীপুরের ৮ জন। বাকিরা ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে দেশে আসতে পারবে বলে জানান আগতরা। দেশে ফেরা এসব যুবকদের চোখে মুখে এখন অন্ধকার, কি করে গুছাবে আবার ভাঙ্গা সংসার। তাই তো দালালদের কঠোর বিচার দাবী করেন এসব পরিবার। সেই সাথে কর্মসংস্থানের দাবী তাদের।

সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখো গেলো যে, মাদারীপুরে আসা ৮ জন হলো সদর উপজেলার হাজরাপুর এলাকার হারুন বেপারীর আজাদ রহমান, কুনিয়া ইউনিয়নের মাহবুল মাতুব্বরের ছেলে রাজিব মাতুব্বর, মকলেছুর মাতুব্বরের ছেলে রাসেল মাতুব্বর, ঘটকচর এলাকার লিয়াকত মাতুব্বরের ছেলে আকমন মাতুব্বর, লুৎফর মাতুব্বরের ছেলে লাদেম মাতুব্বর, রাজৈরের দুর্গাবর্দী জুলহাস সেওয়ালের ছেলে জুয়েল সেওয়াল, কালকিনি উপজেলার গোপালপুর এলাকার মীর মাহাবুবুর রহমানের ছেলে মীর আজিজুল ইসলাম। এর মধ্যে আজাদ দুপুরে বাড়ি এসেছে। বাকি সাতজন কেউ ঢাকাতে আছে আবার কেউ ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার পথে রয়েছে।

একই বোটে থাকা তিউনেশিয়ার সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া আরো মাদারীপুরের ১০ জন হলো হলো কেন্দুয়া ঘটকচর এলাকার ইলিয়াস চৌকিদারের ছেলে নয়ন চৌকিদার, আমিনুর রহমান দুলালের ছেলে জিসান মাতুব্বর, মনি হাওলাদারের ছেলে জাহিদ হাওলাদার, হেলাল হাওলাদারের ছেলে নাঈম হাওলাদার, মিরাজ খাঁর ছেলে আরমিন খাঁ, সাধু কবিরাজের ছেলে সুমন কবিরাজ, জলিল মোল্লার ছেলে শফিক মোল্লা, দুলাল মাতুব্বরের ছেলে হৃদয় মাতুব্বর, শওকত সন্নবাদ এর ছেলে নাঈম সন্নবাদ, রাজৈরের দুর্গাবর্দী এলাকার আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল হাওলাদার। এরা তিউনিশিয়ার সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আছে। আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে মাদারীপুরে আসবে বলে জানা গেছে পরিবার সূত্রে।

তিউনিশিয়া থেকে আসা মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের হাজরাপুর গ্রামের আজাদ রহমান বলেন, আমি এক বছর পূর্বে লিবিয়া গিয়েছিলাম। এক মাস পূর্বে আমি লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার জন্য দালালরা প্রথমে একটি বড় জাহাজের ছবি দেখিয়ে সাগর পাড়ে নিয়ে ছোট বোডে জোর পূর্বক উঠিয়ে দেয়। বোডে না উঠলে গুলি করে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। তাই বাধ্য হয়ে বোডে উঠি। দালালরা ৭৫ জনকে একটি বোডে উঠিয়ে সাগর পথে ইতালির উদ্দেশ্যে পাঠায়। বোডটি সাগরের মধ্যে নষ্ট হয়ে গেলে বোডে ভাসমান তিন দিন থাকার পরে খাবারের অভাবে আমরা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তিউনিশিয়ার একটি জাহাজ এসে আমাদেরকে সবাইকে উদ্ধার করে। পরে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি টিম আমাদের একটি ক্যাম্পে রেখে শুক্রবার ১৭ জনকে বাংলাদেশে পাঠায়। যার মধ্যে মাদারীপুরের ৮ জন রয়েছি। শনিবার দুপুরে বাড়ীতে আসলাম।

আজাদ রহমানের পিতা হারুন বেপারী বলেন, আমার ছেলেকে লিবিয়া থেকে জাহাজে করে ইতালি নেয়ার কথা ছিল। এ জন্য আমি দালালকে অনেক টাকা দিয়েছি। দালাল আমাদের সাথে বেইমানি করেছে। আমি দালালের শাস্তি চাই। সরকারকে ধন্যবাদ যে আমার ছেলেকে দেশে এনেছে। কোন বাবা -মা তার সন্তানকে যেন সাগর পথে বিদেশে না পাঠায়।

মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য আমিনুর রহমান দুলাল বলেন, ২০ থেকে ২৫ দিন পূর্বে ৭৫ জন যাত্রী নিয়ে লিবিয়া থেকে সাগর পথে ইতালি যাওয়ার সময় তিউনিশিয়ার সিমান্তবর্তী সাগরে একটি বোডের ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। সেখানে ৬৪ জন বাংলাদেশী ছিল। যার মধ্যে আমার ছেলেও ছিল। সাগরের মধ্যে বোর্ডে ভাসমান তিন দিন থাকার পরে তিউনিশিয়ার একটি জাহাজে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়াদের তিউনিশিয়ার সেনাবাহিনী একটি ক্যাম্পে রাখে। সেখান থেকে কয়েকজন বাংলাদেশীকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। আমার ছেলে বলেছে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সবাইকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। আমার এলাকার আছে ১০ জন।

মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূর হোসেন সজল বলেন, তিউনিশয়া থেকে মাদারীপুরের ৩০ জন আটক হয়েছে। তার মধ্যে ৮ জন বাড়ি এসে পৌছেছে বাকিরাও শির্ঘ্যই এসে পৌছবে। দালালদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ্য এসকল তিউনিশিয়া ফেরত মানুষ যদি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করে তাহলে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করবো। মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করা হবে। আর দালালদের ব্যাপারে প্রশাসন সব সময় তৎপর রয়েছে। এসকল দালালদের আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। আমরা এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছি।









Leave a reply