পশ্চিমবঙ্গে টানা চিকিৎসক ধর্মঘটে বিপাকে রোগীরা

|

পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসকদের ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন রোগীরা। এদের মধ্যে রয়েছেন কয়েক হাজার বাংলাদেশিও। এক রোগীর মৃত্যুর জেরে চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গত ১২ জুন থেকে ধর্মঘট করছেন কলকাতার সিংহভাগ চিকিৎসক।

ধর্মঘট চলাকালে পশ্চিমবঙ্গের অনেক নামিদামি চিকিৎসকও রোগী দেখেননি এবং অপারেশন বাতিল করেছেন। বাংলাদেশ থেকে অনেক টাকা খরচ করে যারা নির্দিষ্ট কয়েক দিনের ভিসা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসেন; সময় ও অর্থ দুই-ই নষ্ট হওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

অনেকের আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। এজন্য তারা বাস, ট্রেন বা বিমানের টিকিটও কেটেছিলেন। কিন্তু ধর্মঘটে সব উলট-পালট হয়ে গেছে।

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ধর্মঘট থাকায় স্থানীয় রোগীরা হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরেও কোনো চিকিৎসা পাননি। কবে ধর্মঘট উঠবে তা নিয়ে সবাই চিন্তিত। ধর্মঘট উঠার কোনো খবর পাওয়াও যায়নি।

কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে স্বাস্থ্য সংকটের করুণ ছবি দেখা গেছে। অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে ইমার্জেন্সি খোলা থাকলেও চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের মতো কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বড় হাসপাতালের গেটে ‘আজ হাসপাতাল বন্ধ’ পোস্টার লাগিয়ে ইমার্জেন্সিও অচল করে দেয়া হয়।

চিকিৎসক ধর্মঘটে কার্যত অচল পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিসেবা। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিতে কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন জুনিয়ররা।

শুধু তাই নয়, প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা যতক্ষণ না এ ব্যাপারে কোনো আশ্বাস দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন বলে জানান জুনিয়র চিকিৎসকরা। এদিন হাসপাতালের পরিসেবা কার্যত বন্ধ। শুধু শহর নয়, জেলার হাসপাতালগুলোতেও একই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুর ১২টার দিকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে আন্দোলনরত চিকিৎসক ও ভুক্তভোগী রোগীদের দেখতে যান। সেখানে গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। ন্যায় বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে চিকিৎসকরা “উই ওয়ান্ট জাস্টিস” স্লোগান দেন।









Leave a reply