বাজেট অধিবেশন শুরু আজ

|

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হবে এটি।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৫টায় অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। এই অধিবেশনে বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন গত মেয়াদের পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি সরকারের এক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরবেন। এবার বাজেটের আকার হতে পারে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এটি হবে দেশের ৪৮তম বাজেট। আর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৯তম বাজেট।

অধিবেশন শুরুর আগে আজ বিকাল ৪টায় স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে স্থায়ী কমিটির কক্ষে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হবে। এতে কমিটির সদস্য হিসেবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেবেন। মূলত অধিবেশনের সময়সূচি ঠিক করতেই কার্য উপদেষ্টা কমিটির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেহেতু ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাস করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই ধরেই নেয়া হচ্ছে জুন মাসজুড়ে অধিবেশন তো থাকছেই, চলতে পারে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে সবকিছু চূড়ান্ত হবে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকেই। ইতিমধ্যে অধিবেশন ঘিরে সংসদ সচিবালয় যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সাজসজ্জা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শেষ করে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংসদের ভেতরে রাষ্ট্রপতির চলাচলের পথে প্রথা অনুযায়ী লালগালিচা বিছানো হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বাজেট ইনফরমেশন হেল্প ডেস্ক। এই ডেস্ক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন সংসদ সদস্যরা।

বাজেট অধিবেশন সম্পর্কে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া সোমবার তার কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘যেহেতু ৩০ জুনের মধ্যে বাজেট পাস করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাই আমরা ২৭ বা ২৯ জুনের মধ্যে সাধারণ আলোচনা শেষ করব। তবে সবকিছু কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত হবে।’

এদিকে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সংসদে যোগ দিয়ে বাজেট অধিবেশনেই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ কয়েকটি ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপির সংসদ সদস্যরা। জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরব থাকবে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও। আগের সংসদের মতো এবারও বাজেট নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করতে চান প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। তাদের সঙ্গে বিরোধী দলে যোগ হয়েছেন বিএনপির ছয়জন এবং গণফোরামের দুই সংসদ সদস্য। বিএনপি সদস্যরা প্রস্তাবিত বাজেট ছাড়াও দলীয় চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আলোচনার দাবি জানাবেন। এছাড়া তারা বিএনপিসহ সব বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, অর্থপাচার, বিনা বিচারে হত্যা, মাদক সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংক লুটসহ একাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সাধারণ আলোচনার জন্য ইতিমধ্যে সংসদ সচিবালয়ে প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন সময়ের দাবি। তাকে রাজনৈতিক কারণে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এজন্য আমি একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছি। এছাড়া আরও কয়েকটি প্রস্তাব সংসদের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেয়া হয়েছে। আশা করি এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য স্পিকার আমাদের সুযোগ দেবেন।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘আমরা অতীতের মতো এবারও জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদে আলোচনা করব। সরকারের ভালো কাজের যেমন প্রশংসা করব, তেমনি খারাপ কাজেরও সমালোচনা করব।’

এ প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘বিএনপি-জাতীয় পার্টিসহ যারাই সংসদে কথা বলতে চায় তাদের সুযোগ দেয়া হবে। তবে কার্যপ্রণালি বিধি মেনেই সবাইকে কথা বলতে হবে। এর বাইরে কাউকে সুযোগ দেয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে কথা বলতে চাইলে সেই সুযোগ তাকে দেয়া হবে না।’

সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি অধিবেশনে বাজেট ছাড়াও অর্থবিলসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে একাদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন গত ৩০ এপ্রিল শেষ হয়। ওই অধিবেশন ২৪ এপ্রিল শুরু হয়ে ৫ কার্যদিবস চলেছিল। যে অধিবেশনে তিনটি সরকারি বিল পাস হয় ও একটি বিল উত্থাপন করা হয়। এছাড়া ওই অধিবেশনে সংসদ কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭(১) বিধিতে সাধারণ আলোচনা শেষে সন্ত্রাস ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। নির্বাচনের তিন মাস পর শপথ গ্রহণ করে বিএনপির পাঁচজন সংসদ সদস্য ওই অধিবেশনে যোগ দেন।









Leave a reply