ডিআইজি মিজানের বিপুল অবৈধ সম্পদের সন্ধান

|

পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি অনুসন্ধান শেষে তার বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির।

প্রতিবেদনে ডিআইজি মিজান ছাড়াও তার এক ভাই ও ভাগ্নের নামে কেনা সম্পদসহ ৪ কোটি ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়।

এদিকে, রোববার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান কর্মকর্তা পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ২৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।

ওই চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে ডিআইজি মিজান বলেছেন, তিনি বাঁচার জন্য এ পন্থা অবলম্বন করেছেন। টিভিতে দু’জনের মধ্যকার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডও প্রকাশ করা হয়।

তবে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির এ বিষয়ে বলেন, তাকে ফাঁসানোর জন্য জিআইজি মিজান চক্রান্ত করছেন। তিনি বলেন, মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিলের পরই ডিআইজি মিজান একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।

সূত্র জানায়, ওই টিভি প্রতিবেদনটি দেখার পর দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ পরিচালক এনামুল বাছিরকে ডেকে জেরা করেছেন। তবে ওই পরিচালক দুদক চেয়ারম্যানকেও বলেছেন, তিনি ষড়ন্ত্রের শিকার।

তিনি কোনো ঘুষ নেননি। অভিযোগের সত্যতা আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য রোববার দুদকের সচিব দিলওয়ার বখতকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও মহাপরিচালক (আইন)। তদন্ত কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে দুদক পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা বাছির বলেন, ডিআইজি মিজানের স্ত্রীর অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে পুলিশ প্লাজায় তার স্ত্রী রত্নার দোকানে যাই। সেখানে ডিআইজি মিজানও ছিলেন।

ওই দোকানের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ তিনি নানা জায়গায় সরবরাহ করে বলছেন, আমি নাকি টাকা আনতে গিয়েছি। ওই দোকানটি অবৈধ টাকায় কেনা হয়েছে কি না, তা সরেজমিন যাচাই করতে আমি সেখানে যাই।

সূত্র জানায়, ২৩ মে দুর্নীতি দমন কমিশনে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশসহ অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন দুদকের পরিচালক বাছির। এতে বলা হয়, ৪ কোটি ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকার সম্পদ ডিআইজি মিজানের দখলে রয়েছে।

এর মধ্যে তার নিজের নামে ১ কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার টাকার স্থাবর ও ৯৬ লাখ ৯২ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া ছোট ভাই মাহবুবুর রহমানের নামে তার নিজের ৯৫ লাখ ৯১ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।

আর ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসানের নামে তার ১ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে তার আয় পাওয়া যায় ২ কোটি ৯০ লাখ ৭৮ হাজার টাকার। আর ব্যয় পাওয়া যায় ৮৫ লাখ ১২ হাজার টাকার।

আয়-ব্যয় বাদ দিয়ে ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার টাকার। তার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারাসহ ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং আইনের ৪(২) ধারায় মামলার সুপারিশ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা এনামুল বাছির।

তবে এ সুপারিশে ডিআইজি মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্নার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। রত্নার বিরুদ্ধে পৃথক অনুসন্ধান হচ্ছে বলে জানা গেছে। ডিআইজি মিজানের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ রয়েছে।

যদিও প্রথম পর্যায়ের অনুসন্ধানে তার স্ত্রীর নামে ৭২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫২ টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। এ অঙ্ক দ্বিগুণের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন দুদক কর্মকর্তারা।

এদিকে, মিজানের বিরুদ্ধে প্রথম অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদক উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারির বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তোলা হয়েছিল। দুদকের ওই উপ-পরিচালকের কাছ থেকে তেমন সুবিধা পাবেন না বলে তাকে দুদক থেকে অন্যত্র বদলিরও চেষ্টা করেন মিজান।

এতে তিনি সফলও হন। দ্বিতীয় ধাপে তিনি পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনলেন। দুদকের উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের কমিটির তদন্তে এ অভিযোগের বিষয়ে কী পাওয়া যায়, তা এখন দেখার বিষয়।

দুদক তদন্ত টিম ডিআইজি মিজানের অভিযোগের চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে। এ বিষয়ে ডিআইজি মিজানের সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।









Leave a reply