কুখ্যাত খুনী চার্লস ম্যানসনের মৃত্যু

|

ষাটের দশকে সিরিয়াল কিলিংয়ের জন্য কুখ্যাত কাল্ট নেতা চার্লস ম্যানসন মারা গেছেন। ১৯৬৯ সালে চার্লস ও তার অনুসারীরা নির্বিচারে ৭ জনকে হত্যা করে সাড়া ফেলে দেয় যুক্তরাষ্ট্রে। হতভাগ্যদের একজন ছিলেন বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা রোমান পোলানস্কির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শ্যারন টেইট।

চিকিৎসকরা জানান, বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে এ মাসের শুরুতেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন চার্লস। ষাটের দশকের শুরু থেকেই জাতিগত দাঙ্গা উস্কে দিতে চার্লস তার অনুসারীদের মগজ ধোলাই শুরু করেন, অনুপ্রাণিত করেন নির্বিচার শ্বেতাঙ্গ হত্যায়। তার ধারণা ছিলো এসব হত্যাকাণ্ডে কৃষাঙ্গদের অভিযুক্ত করবে পুলিশ। চার্লস নিজেকে যীশু খ্রিস্ট বলেও দাবি করেন; সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করার অসামান্য ক্ষমতার কারণে তার গুনগ্রাহীও জুটে যায় অনেক। তাদের নিয়েই সামাজিক সব বিধিনিষেধ পাল্টে দিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

ম্যানসন ফ্যামিলি নামে পরিচিত তার অনুসারীরা রোমান পোলানসকির স্ত্রী শ্যারন টেইট সহ ৫ জনকে ১৯৬৯ সালের ৯ আগস্ট ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করে। পরদিন একই গোষ্ঠীর সদস্যরা লস অ্যাঞ্জেলেসর ধনাঢ্য দম্পতি লেনো ও রোজমেরি লাবিয়ানকাকেও হত্যা করে। মার্কিন ইতিহাসে এ দুটি হত্যাকাণ্ড টেইট-লাবিয়ানকা হত্যা মামলা নামে সুপরিচিত। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও হত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে ১৯৭১ সালে চার্লস ম্যানসনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

তবে সাজা কার্যকরের আগেই ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রহিত হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান চার্লস, রায় হয় আজীবন কারাদণ্ডের। ৪০ বছরেরও বেশি সময় সাজা ভোগের পর ২০১২ সালে মুক্তি দেয়া হয় তাকে। তবে ভক্তকূলকে ফের হত্যাকাণ্ডে উস্কানি দিতে পারেন এমন শঙ্কায় জনসম্মুখে আসায় নিষেধাজ্ঞা ছিলো চার্লসের ওপর।









Leave a reply