খৎনার সময় নড়াচড়া করায় শিশুকে ডাক্তারের মারধর!

|

খৎনার সময় ব্যথায় নড়াচড়া ও কান্নাকাটি করায় আয়মান আশরাফ (৫) নামে এক শিশুকে মারধর করেছেন চিকিৎসক। বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) গতকাল শনিবার এ ঘটনা ঘটে। ওই ডাক্তারের নাম নজরুল ইসলাম ফারুক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, শনিবার সকালে এ ঘটনার পর থেকে শিশুটি আতঙ্কে রয়েছে। পরিবারের বাইরের কোনো মানুষ দেখলে ভয়ে আঁতকে উঠছে। রাতে ঘুমাতে পারছে না।

ওই হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ফারুক ঘটনার পর মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন। ফলে তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কাছে তিনি মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন। যদিও ঘটনার একদিন পরও শিশুটির গালে লাল দাগ দৃশ্যমান আছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিক আমিন জানান, ঘটনাটি খুবই অন্যায় হয়েছে। শিশুর স্বজনদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

শিশুর পরিবারের এক সদস্য বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংকের ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলাম মুরাদের শ্বশুরবাড়ি বগুড়া শহরের মালতিনগর এলাকায়। তার স্ত্রীর নাম মাসুমা রহমান মিশু। তাদের সন্তান আয়মান ঢাকার মাইলস্টন স্কুল ও কলেজের নার্সারির ছাত্র। ঈদের ছুটিতে বগুড়ায় গিয়ে আয়মানকে খৎনা করার উদ্যোগ নেন। সম্প্রতি তাকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম ফারুককে দেখানো হয়।’

‘ওই চিকিৎসক শনিবার সকালে খৎনা করার সময় দেন। ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়মানকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। সেখানে ঢাকার ইব্রাহিম মেডিক্যাল কলেজের এক ছাত্রী, নার্স ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। লোকাল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর ডা. ফারুক অপারেশন শুরু করেন। কিন্তু ঠিকমতো অবশ না হওয়ায় আয়মান নড়াচড়া ও কান্নাকাটি শুরু করে’।

শিশুর পরিবারের ওই সদস্য বলেন, ‘এ সময় ডা. ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটির গালে ছয় থেকে সাতটি চড়-থাপ্পড় ও উরুতে নখের আঁচড় দেন। এ সময় সেখানে থাকা নার্সরা অনুরোধ করেও ওই চিকিৎসককে শান্ত করতে পারেননি। তিনি নার্স ও অন্যদের ওটি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। পরে আবারও লোকাল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর খৎনা করানো হয়।’

শিশু আয়মান অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হওয়ার পর বাবা-মাকে বলে, ‘আর কখনও ওই ডাক্তারের কাছে যাবো না, ডাক্তার মারে’।

আজ দুপুরে ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর অনেকের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিশুটির বাবা আশরাফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, ওই ডাক্তার মানসিকভাবে অসুস্থ। তিনি তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছেন।









Leave a reply