একজন নওমুসলিমের শাহাদা পাঠের স্বাক্ষী হওয়ার অনুভূতি

|

শাফকাত রাব্বী:

জুম্মার সময়ে আমরা প্রায় ৩০০-৪০০ মানুষ ডাউন টাউন ডালাসের একটা চার্চে নামাজ পড়ি। এটা বেশ নাম করা পুরানা একটা চার্চ, এক্কে বারে ডাউন টাউনের কেন্দ্রে। টুরিস্ট দেখতে আসে এমন চার্চ। জুম্মার সময়ে চার্চের লোকেরা বাইরে সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয় “প্রাইভেট ইভেন্ট”।

আমরা যখন নামাজ পড়ি তখন চার্চের যে প্রেসিডেন্ট সে নিজে প্রায়ই তার অফিসে বসে কম্পিউটারে কাজ করে। আমরা মুসলিমরা এই সুবিধার বিনিময়ে প্রতি জুম্মায় চার্চকে কিছু টাকা দেই যার যা খুশি।

নামাজের শুরুতে একটা কালো আমেরিকান ছেলে কাপড়/চাদর বিছানোর কাজ শুরু করে দেয় প্রায় এক ঘন্টা আগে। জিশু খ্রিষ্টের মূর্তীগুলোকে সে ঢাকে সাদা চাদরে। আমার টিমের এক পাকিস্তানি ছেলে আছে, সেও প্রায় এক ঘন্টা আগে চলে যায়, খাদেমের কাজ করতে।

এই চার্চে নামাজ পড়তে গিয়ে অনেক মজার মজার অভিজ্ঞতা হয়। প্রায়ই ভিন্ন ধর্মের লোকজন এসে জুম্মার নামাজের সময় জামাতের পিছনে মাটিতে বসে থাকে, কেউ দাঁড়িয়ে খুদবা শুনে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এক্টা চায়নিজ আমেরিকান মেয়ে এসে বসে থাকে। আগে দেখতাম গালে হাত দিয়ে খুব ক্রিটিকাল মুখ নিয়ে খুদবা শুনতো।। কিন্তু সে নামাজ পড়তে দাড়াতো না।

আজকে খেয়াল করে দেখলাম মেয়েটা নামাজেও দাঁড়াচ্ছে।

আজকে রমজানের শেষ জুম্মা ছিল। নামাজ শেষ হবার সাথে সাথে আমাদের ইমামের সহকারী সবাইকে থামতে বললেন। বললেন আজকে তার জীবনের বিশেষ দিন, কারণ আজকে একজনকে শাহাদা পড়ানো হবে।

মিচ নামের এক কালো আমেরিকান ছেলে দাড়ালো। তাকে দেখলে যে কারো মনে হবে বব মার্লের রেগে ব্যান্ডের ব্যাস গিটারিস্ট। একেবারেই ক্যারিবিয়ান একটা স্টাইল ছেলেটার।

দুই মিনিটে শাহাদা পড়ানো হয়ে গেল। আমরা অনেকেই ভিডিও করলাম। এক ফাঁকে তাকিয়ে দেখি চায়নিজ মেয়েটাও ভিডিও করছে বসে বসে। ভাবলাম হয়তো ওকেও কিছু দিন পরে আমাদের ভিডিও করার সৌভাগ্য হবে।

ইমাম সাহেব জানালেন এই ছেলেটা হচ্ছে আগে যে ছেলেটার কথা বললাম, তার ছোট ভাই। বড় ভাই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে ইসলামে। আমার টিমের ছেলেটা অফিসে ফিরে জানালো এই বড় ভাই নাকি এর আগেও ৩-৪ জনকে মুসলিম বানিয়েছে।

শাহাদার সময় ইমাম সাহেব বললেন, সবাই যেন আমরা আমাদের নতুন মুসলিম ভাইকে ফোন নাম্বার দেই, সাদরে বরণ করে নেই। আমরা অনেকেই লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকে ছেলেটাকে জড়িয়ে ধরে ওয়েলকাম জানালাম।

আমার যখন সুযোগ আসলো, তাকে খুব জোরে বুকে জড়ালাম। পিঠে হাত বুলালাম, যেভাবে আমার ছেলেকে আমি প্রতিদিন জড়াই।

আমার তখন চোখে পানি।

এই অনুভুতিটাকেই বোধ হয় বলা হয়, ইখওয়ানুল মুসলিমিন। দ্যা ব্রাদারহুড অফ মুসলিমস। মারাত্মক একটা ফিলিংস।

লেখক: ব্যাংকার/শিক্ষক, ডালাস, টেক্সাস।









Leave a reply