সাধাসিধে জীবনের ভারতীয় সেই মন্ত্রী: উগ্রপন্থী নেতা যখন ‘সোশাল মিডিয়া হিরো’

|

ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দ্বিতীয়বার বৃহস্পতিবার শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। রাত সাড়ে ৮টায় রাষ্ট্রপতির সচিব যেই ঘোষণা করলেন, ‘রাজ্য মন্ত্রী হিসাবে এ বার শপথ নেবেন শ্রী প্রতাপ চন্দ্র সারেঙ্গি..’। ওমনি হাততালির ঢেউ উঠল! কে ইনি? একেবারেই সাধারণ গোছের সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরা। মাথার চুল উস্কো খুস্কো, হাওয়ায় উড়ছে! দীর্ঘ দিন রাজনীতি করলেও একটা সাইকেল ছাড়া তার কোনো বাহন নেই। খড়ে ছাওয়া একটা কুঁড়ে ঘর।

অল্পক্ষণের মধ্যেই সারেঙ্গির বাড়িঘরের ছবি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেল। মূলধারার মিডিয়ায়ও আসতে লাগলো তার সাধাসিধে জীবনের নানান গল্প। সর্বত্র বাহ বাহ!

অবশ্য ভারতজুড়ে সারেঙ্গির পরিচয় মন্ত্রী হওয়ার পর ছড়ালেও আগে থেকেই ওড়িশাতে তিনি আলোচিত চরিত্র। লোকসভার এমপি হওয়ার আগে প্রতাপ সারঙ্গি ওড়িশার নীলগিরি বিধানসভা আসন থেকে দুইবার (২০০৪ ও ২০০৯) নির্বাচিত হয়েছিলেন। এত বছর ধরে এমপি থাকার পরও তার বাড়িটা কুঁড়েঘরই আছে। সাইকেল চালিয়ে নিজের পুরো নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়ান। এ গ্রাম থেকে ওই গ্রামে যান। মানুষের খোঁজ খবর নেন।

তবে শুধু একজন সাধাসিধে জীবনে জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিক নন সারেঙ্গি। তার অতীতের আরও একটি পরিচয় আছে। তিনি এক সময় হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি সংগঠন বজরঙ্গ দলের নেতা ছিলেন।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, ১৯৯৯ সালে ওড়িশায় গ্রাহাম স্টেইন্স নামে এক অস্ট্রেলিয়ান খ্রিষ্টান মিশনারীকে বজরঙ্গ দলের সদস্যরা পিটিয়ে হত্যা করেছিল তখন সারেঙ্গি রাজ্যের বজরঙ্গ দলের প্রধান ছিলেন। ২০০৩ সালে গ্রাহাম স্টেইন হত্যা মামলার রায়ে বজরঙ্গ দলের আরেক নেতা দারা সিংহসহ ১২ জনকে দণ্ড দেয় আদালত। যদিও পরে হাইকোর্ট দারার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে। এছাড়া বাকি ১১ দণ্ডিতকেও মুক্তি দেয়া হয়।

ওড়িশা ভিত্তিক সাংবাদিক সন্দীপ সহু বিবিসিকে বলেছেন, অতীতে মিডিয়াকে দেয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সারেঙ্গি নিজের উগ্রপন্থী চিন্তাভাবনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। ২০০২ সালে ওড়িশা রাজ্যসভায় হামলার অভিযোগে বজরঙ্গ দল ও অন্যান্য উগ্রপন্থী কয়েকটি গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্যের সাথে সারেঙ্গিও গ্রেফতার হয়েছিলেন।

কিন্তু সামাজিক মাধ্যম আর ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে এই উগ্রপন্থী নেতা শুধু সাধাসিধে জীবনের কারণে ‘সোশাল মিডিয়া হিরো’য় পরিণত হয়েছেন।





সম্পর্কিত আরও পড়ুন







Leave a reply