আগুন থেকে বাঁচতে মরণঝাঁপ

|

ভারতের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের চতুর্থ এবং পঞ্চম তলার জানালা জুড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে কালো ধোঁয়া। প্রাণ বাঁচাতে সবচেয়ে উপরের তলা থেকে একের পর এক কিশোর ঝাঁপিয়ে পড়ছে নীচে। কেউ কেউ আবার কার্নিশে কোনও ক্রমে দাঁড়িয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছে। গতকাল বিকেলে গুজরাটের সুরাতে এমনই এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী রইল। ওই অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ২০ জন পড়ুয়ার। যাদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। আহত অনেকে।

দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে গুজরাট সরকার। মৃতদের পরিবারকে চার লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে বিজয় রূপাণীর সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০ জন ছাত্রছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

দমকল সূত্রের খবর, বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ সুরাতের সারতানা এলাকার তক্ষশীলা কমপ্লেক্সের এক তলায় আগুন লাগে। সেই আগুন দ্রুত পাঁচ তলা ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে। বহুতলটির সবচেয়ে উপরের তলায় একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে। সেখানে ক্লাস চলছিল। ওই কোচিং সেন্টারে মূল অঙ্ক, ইংরেজি পড়ানো হত। পড়ুয়াদের বয়স ৮ থেকে ১৭। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, যখন আগুন লাগে, তখন বহুতলে প্রায় ৫০ জন পড়ুয়া ছিল।

আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কমপ্লেক্স জুড়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, কালো ধোঁয়ার মধ্যেই আতঙ্কিত পড়ুয়ারা দিশেহারা হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। জনা দশেক পড়ুয়া উপরের তলা থেকে নীচে ঝাঁপ দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উপর থেকে নীচে রাস্তার উপর পড়ে পড়ুয়ারা। যার ফলে তাদের অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগুন লাগার অল্প কিছু ক্ষণের মধ্যেই ১৯টি ইঞ্জিন এবং দু’টি হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্ম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলের কর্মীরা। কী ভাবে এমন ভয়াবহ আগুন লাগল, সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। তবে দমকলের একাংশের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। আগুন লাগার এক ঘণ্টা পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল বাহিনী। দমকল পৌঁছনোর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারের কাজে হাত লাগান। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনাস্থলে যান নগরোন্নয়ন দফতরের প্রধান সচিব।









Leave a reply